![]()
আওয়ামী লীগ সরকারের সময় শতাধিক ব্যক্তিকে গুম করে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) গঠন করা হয়েছে। মামলায় সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের তারিখ ধার্য করা হয়েছে ৮ ফেব্রুয়ারি।
বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ বুধবার এই আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। এ মামলার একমাত্র আসামি জিয়াউল। তাকে বুধবার ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
জিয়াউলের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আদেশ পড়ে শোনান বিচারপতি মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। তিনি জিয়াউলের বিরুদ্ধে আনা শতাধিক মানুষকে গুম করে হত্যার ঘটনার তিনটি অভিযোগ আদেশে উল্লেখ করেন। পরে আসামির উদ্দেশে বিচারক মোহিতুল হক বলেন, ‘আপনি দোষ স্বীকার করেন কি না।’ দাঁড়িয়ে জিয়াউল জানান, তিনি দোষী নন। ট্রাইব্যুনাল পরে এ মামলায় সূচনা বক্তব্যের জন্য ৮ ফেব্রুয়ারি তারিখ ধার্য করেন।
জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে দেখা যাবে গণহত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র-গুলি : জুলাই আন্দোলনে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় প্রসিকিউশনের জব্দকৃত সব আলামত জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে প্রদর্শনের অনুমতি দেন ট্রাইব্যুনাল।
বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এক মাসের জন্য এ অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম।
তিনি বলেন, গণভবনকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর হিসাবে ঘোষণা করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। ২০ জানুয়ারি এর উদ্বোধন হবে। সেখানে এখন পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালে হওয়া বা চলমান বিচারাধীন মামলায় যেসব আলামত জব্দ করা হয়েছে, তা প্রদর্শনের জন্য আমরা একটি আবেদন করেছি। অর্থাৎ এসব মামলায় জব্দকৃত গুলি, অস্ত্র, রক্তমাখা পোশাক, গুম হওয়া ব্যক্তিদের নির্যাতনে ব্যবহৃত সরঞ্জাম যেন জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরে দেওয়া হয়। শুনানি শেষে এক মাসের জন্য মামলা সম্পর্কিত এসব আলামত প্রদর্শনের অনুমতি দেন ট্রাইব্যুনাল। শুধু আগামী এক মাসের জন্য প্রদর্শন করতে পারবেন দর্শনার্থীরা।
টিএফআই সেল পরিদর্শনের অনুমতি পেলেন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা : এদিকে আওয়ামী লীগ সরকারের টানা শাসনামলে গুম-নির্যাতনের ঘটনাস্থল র ্যাবের টিএফআই সেল পরিদর্শনের অনুমতি চেয়ে করা আসামিপক্ষের আইনজীবীদের আবেদন মঞ্জুর করেছেন ট্রাইব্যুনাল। বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী তাবারক হোসেন। তিনি গুমের মামলায় সাত আসামির হয়ে লড়ছেন। ১৫ দিনের মধ্যে অপরাধের ঘটনাস্থল পরিদর্শনের অনুমতি চেয়েছেন তিনি। শুনানি শেষে তার আবেদনটি মঞ্জুর করেন আদালত।
এ বিষয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে আইনজীবী তাবারক বলেন, র ্যাবের টিএফআই সেলকে এ মামলার অপরাধের ঘটনাস্থল হিসাবে ফরমাল চার্জে উল্লেখ করেছে প্রসিকিউশন। আমরা ওই ঘটনাস্থল পরিদর্শনের জন্য একটি আবেদন নিয়ে শুনানি করেছি আজ (বুধবার)। আমাদের কথা শুনে অনুমতি দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
তিনি বলেন, প্রসিকিউশনও আমাদের সঙ্গে যেতে চেয়েছে। তাই তাদের সঙ্গে আলোচনা করে আমরা টিএফআই সেল পরিদর্শন করতে যাব। এছাড়া আমাদের আরও দুটি আবেদন ছিল। এর একটি জামিন শুনানি। অর্থাৎ এ মামলার আসামি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাহাঙ্গীর আলমের জামিন আবেদন করেছি। কারণ, তিনি হার্টের রোগী। ট্রাইব্যুনাল আমাদের আবেদনটি রেকর্ডে রেখেছেন। তবে খারিজ করেননি।
এ ব্যাপারে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম বলেন, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা র ্যাবের টিএফআই সেল বা ঘটনাস্থল পরিদর্শনের আবেদন করেছেন। তাদের আবেদনটি মঞ্জুর করেছেন ট্রাইব্যুনাল। তবে শর্ত দেওয়া হয়েছে প্রসিকিউশনকে জানিয়ে সেখানে যেতে হবে। প্রসিকিউশন চাইলে সেখানে উপস্থিত থাকতে পারবেন।
বাংলাদেশ সময়: ৭:৫৭:১৭ ৪১ বার পঠিত