সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রামে এক রাতে তিন খুন

প্রথম পাতা » অপরাধ » চট্টগ্রামে এক রাতে তিন খুন
সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬



চট্টগ্রামে এক রাতে তিন খুন

চট্টগ্রামে এক রাতে দুর্বৃত্তদের গুলি ও  ছুরিকাঘাতে পৃথক তিনটি খুনের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার রাতের বিভিন্ন সময়ে চট্টগ্রাম মহানগর, ফটিকছড়ি ও হাটহাজারী উপজেলায় এসব ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- নগরের বন্দর এলাকায় আজিয়ার রহমান (৩৫), ফটিকছড়ি উপজেলায় জামায়াত কর্মী জামাল উদ্দিন (৩০) ও হাটহাজারীতে মাহাবুবুল আলম (৩৫)।

শনিবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে ফটিকছড়ি উপজেলার লেলাং ইউনিয়নের শাহনগর দীঘিরপাড় এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে জামায়াত কর্মী জামাল উদ্দিন খুন হন। এই ঘটনায় নাসির উদ্দিন ওরফে ছোট নাসির নামের আরও একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, তিনিও জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জানা গেছে, তিনটি মোটরসাইকেলে করে আসা দুর্বৃত্তরা হঠাৎ জামাল ও নাসিরের ওপর গুলিবর্ষণ শুরু করে। এতে ঘটনাস্থলেই জামাল উদ্দিনের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে ফটিকছড়ি থানা পুলিশের কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেন এবং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ছয় রাউন্ড গুলির খোসা উদ্ধার করেছে।

চট্টগ্রামের হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. তারেক আজিজ বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি, জামাল ও নাছির মোটরসাইকেলে চড়ে বাইরে থেকে নিজ গ্রামে বাড়ির কাছাকাছি আসেন। সেখানে রাস্তায় তাদের লক্ষ্য করে দুর্বৃত্তরা গুলি করে পালিয়ে যায়। তারাও মোটরসাইকেলে এসেছিলেন বলে স্থানীয়রা জানান।’

গত শনিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে নগরের বন্দর থানাধীন পোর্ট কলোনি এলাকায় দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে আজিয়ার রহমান (৩৫) নামে এক যুবক খুন হন। আজিয়ার রহমান বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার আলতি বুরুজবাড়িয়া এলাকার মৃত হাসেন আলীর ছেলে। পেশায় অ্যাপভিত্তিক রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘পাঠাও’র বাইকচালক আজিয়ার নগরীর বন্দরটিলা এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। বন্দর থানার অফিসার ইনিচার্জ (ওসি) আবদুর রহিম বলেন, ‘আনুমানিক রাত দেড়টার দিকে পোর্ট কলোনি সংলগ্ন নিমতলা সড়কে রক্তাক্ত অবস্থায় আজিয়ার পড়ে ছিল। আমাদের টহল পুলিশের টিম তাকে দেখতে পেয়ে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওসি বলেন, ‘ঘটনাস্থলে তার পাঠাও সার্ভিসের বাইক, মোবাইল ও মানিব্যাগ পাওয়া যায়। সেই সূত্রে আমরা তার পরিচয় নিশ্চিত করি প্রথমে। তবে ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, সে আহত অবস্থায় বাইক চালিয়ে সেখানে আসে। সেখানে চলন্ত বাইক থেকে সে রাস্তায় ঢলে পড়ে। তার শরীরে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন আছে। সম্ভবত অন্য কোথাও ছুরিকাঘাতে আহত হওয়ার পর বাইক চালিয়ে বাসায় যাবার পথে সে রাস্তায় পড়ে যায় এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়।’ রোববার ভোররাত ৪টার দিকে হাটহাজারী পৌরসভার কলাবাগান এলাকায় দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে খুন হন মাহবুব আলম। নিহত মাহবুব আলম হাটহাজারী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের আজিমপাড়া এলাকার হাফেজ আবদুল খালেক বাড়ির মৃত আবদুল নবীর ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাহবুব আলম পেশায় একজন মাইক্রোবাস চালক ছিলেন। পাশাপাশি তিনি কলাবাগান এলাকার আলাউল হল নামের একটি ভবনের তত্ত্বাবধায়ক হিসেবেও কাজ করতেন। রোববার ভোররাতে ৩ থেকে ৪ জন দুর্বৃত্ত ওই এলাকায় এসে মাহবুব আলমের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে দুর্বৃত্তরা তাকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেয়ার পথেই মাহবুবের মৃত্যু হয়। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে হাটহাজারী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহিদুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ৫:৫৮:৫০   ৯৬ বার পঠিত