মিরপুরে গির্জায় সুব্রত বৈদ্য হত্যা মামলায় সব আসামি খালাস

প্রথম পাতা » প্রধান সংবাদ » মিরপুরে গির্জায় সুব্রত বৈদ্য হত্যা মামলায় সব আসামি খালাস
শুক্রবার, ১৪ মার্চ ২০২৫



মিরপুরে গির্জায় সুব্রত বৈদ্য হত্যা মামলায় সব আসামি খালাস

রাজধানীর মিরপুরে ১৩ বছর আগে একটি গির্জায় সুব্রত বৈদ্যকে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সব আসামিকে খালাস দিয়েছে আদালত।

বৃহস্পতিবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৮ এর বিচারক মো. মঞ্জুরুল হোসেন এ আদেশ দেন। আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি মর্মে তাদের খালাসের রায় দেন।

খালাসপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—রিপন দাস, শিমন শিকদার এবং প্রভুদান বাড়ৈ। তাদের মধ্যে প্রভুদান বাড়ৈ পলাতক। অপর দুই আসামিকে রায় ঘোষণার সময় কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী ফজলুর রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মামলার বিচার চলাকালে সুব্রত বৈদ্যর প্রেমিকা নীপা দাস, তার বাবা নিবারণ দাস ও মা লিন্ডা দাস মারা গেছেন। তাদের আগেই মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০১১ সালে সুব্রত বৈদ্য মিরপুর বাংলা কলেজে স্নাতক শ্রেণিতে পড়াশোনা করতেন। চার বোনের একমাত্র ভাই সুব্রত। আর্থিক অনটনের কারণে মা-বাবা লেখাপড়ার খরচ জোগাতে না পারায় সুব্রত মিরপুর মাজার রোডের দ্বিতীয় কলোনির মেথদ লিস্ট চার্চ সানডে স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। ওই চার্চের নিচতলায় নীপা দাসের বাসা ছিল। নিপা দাসের সঙ্গে সুব্রতর প্রেমের সম্পর্ক হয়। এ নিয়ে নীপা দাসের ভাই, বাবা ও মায়ের সঙ্গে সুব্রতর সম্পর্ক খারাপ হয়। তারা নীপা দাসের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে সুব্রতকে চাপ দেন। সম্পর্ক ছিন্ন না করলে প্রাণনাশেরও হুমকি দেওয়া হয়। পরে ২০১১ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর চার্চে ছাত্রছাত্রীদের ধর্মীয় বিষয়ে পড়ানোর পর চতুর্থ তলায় নীপা তার প্রেমিক সুব্রতকে ডেকে নেন। ওই দিন দুপুর আড়াইটায় নীপা টেলিফোনে সুব্রতের স্বজনদের জানান সুব্রত অসুস্থ। সুব্রতর মা, ভাই, বোন গির্জায় গিয়ে দেখেন তাকে নিয়ে নীপা, তার মা-বাবা ও ভাইরা নিচে নামছেন। তাকে দ্রুত মিরপুরের ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নীপার পরিবার জানায়, সুব্রত হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। কিন্তু, ময়নাতদন্তে জানা যায়, সুব্রতকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে।

এ ঘটনায় সুব্রতের বোন সুবর্ণা বৈদ্য প্রথমে দারুস সালাম থানায় অপমৃত্যুর মামলা করেন। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর তিনি থানায় মামলা করতে গেলে মামলা নেওয়া হয়নি। তখন সুবর্ণা বৈদ্য ঢাকার আদালতে মামলা দায়ের করেন। আদালত দারুস সালাম থানাকে অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।

দারুস সালাম থানার এসআই শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ তদন্ত শেষে ছয় জনের বিরুদ্ধে ২০১৩ সালের ২৭ অক্টোবর অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

পরে বিচারের জন্য আদালতে গেলে দীর্ঘদিন ধরে সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে ১৩ মার্চ রায়ের তারিখ ধার্য করেন আদালত।

বাংলাদেশ সময়: ২৩:৪০:৫৮   ২২৯ বার পঠিত  




প্রধান সংবাদ’র আরও খবর


সাংবাদিক পরিচয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ, আলমডাঙ্গায় ভূয়া সাংবাদিককে ১৫ দিনের কারাদণ্ড
রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলাসমূহ প্রত্যাহারে সুপারিশের লক্ষ্যে জেলা পর্যায়ে কমিটি গঠন
বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরাতে কতদিন লাগবে?
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ইস্যুতে প্রশ্ন এড়িয়ে গেলেন ভারতের মুখপাত্র
১২ বছরের সেই শিশুর গর্ভে জন্ম নেওয়া নবজাতকের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ
রাষ্ট্র হারলেও সাধারণ নাগরিকের ন্যায়বিচার নিশ্চিত হওয়াই স্বস্তি: অ্যাটর্নি জেনারেল
নিজে গাড়ি চালিয়ে রাজধানীর পরিস্থিতি দেখলেন প্রধানমন্ত্রী
বিশ্বকাপে ‘ঘৃণা’ ছড়ানো বিদেশিদের বহিষ্কার করবে আর্জেন্টিনা!
হাম ও উপসর্গে ৮৩৭ শিশুর মৃত্যু
বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখ রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে সম্মত হয়েছে মিয়ানমার: মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী

Law News24.com News Archive

আর্কাইভ