বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের মামলায় জালিয়াতির অভিযোগ: আইনজীবীকে তলব আপিল বিভাগের

প্রথম পাতা » প্রধান সংবাদ » সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের মামলায় জালিয়াতির অভিযোগ: আইনজীবীকে তলব আপিল বিভাগের
বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬



সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত ৯টি মামলায় শুনানি ও রায়ে জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়ার বিরুদ্ধে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) আপিল বিভাগ সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর আইনজীবী ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়াকে তলব করে এই জালিয়াতির ঘটনার ব্যাখ্যা চেয়েছেন। আদালত জানিয়েছেন, প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের বিচারপতিদের কাছ থেকেও বিষয়টি জানতে চাওয়া হবে। আগামী বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগে বিষয়টি আদেশের জন্য রাখা হয়েছে। আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ৯১৯ নম্বর রিট মামলায় হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি নাইমা হায়দারের নেতৃত্বাধীন দ্বৈত বেঞ্চ ২০২৩ সালের ১৬ অক্টোবর রায় ঘোষণা করেন। উক্ত রায়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০১৩-এর ৭ নম্বর বিধি অনুযায়ী ৬০ শতাংশ নারী কোটা সঠিকভাবে অনুসৃত হয়নি উল্লেখ করে তৎকালীন চূড়ান্ত ফলাফল বাতিল করা হয় এবং ৬ মাসের মধ্যে নতুন মেধা তালিকা প্রণয়ন করে রিটকারীদের নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, মূল ৫৮ জন পিটিশনারের বাইরে অতিরিক্ত ৬৪ জন নতুন সহ-পিটিশনার অন্তর্ভুক্ত করার জন্য এফিডেভিট সম্পন্ন করা হয়। তবে নিয়মিত সেকশন প্রসেস, নাম তালিকাভুক্তকরণ কিংবা বিবাদী পক্ষকে (প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর) নোটিশ পাঠানো ছাড়াই ফাইল সরাসরি বিচারকের কাছে রেখে মাত্র একদিনের মধ্যে আবেদন মঞ্জুর ও শুনানি গ্রহণ করা হয়। মূল শুনানির মাত্র ৪ দিনের মাথায় হাইকোর্ট বিভাগ রায় ঘোষণা করেন, যেখানে মূল আবেদনকারীদের বাদ রেখে পরবর্তীতে যুক্ত হওয়া নতুন সহ-পিটিশনারদের পক্ষে আদেশ দেওয়া হয়। প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ সংক্রান্ত এমন মোট ৯টি মামলায় জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ লিভ টু আপিল দায়ের করলে আপিল বিভাগে শুনানিকালে নথিপত্রে দৃশ্যমান এই নজিরবিহীন দ্রুততা, প্রক্রিয়ার অনিয়ম ও জালিয়াতির চিত্র সামনে আসে, যার প্রেক্ষিতে আদালত তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এ বিষয়ে আইনজীবী ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া বলেন, মূল পিটিশনারদের কিছু বাদ দেওয়া হয়েছিল, আবার কিছু যুক্তও হয়েছিল। আমি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেছি, তবে সেকশনে কিছু জটিলতা ছিল। কাল আদেশের পর বিস্তারিত বলতে পারব।

বাংলাদেশ সময়: ১৬:৫৮:০২   ১৬ বার পঠিত   #  #  #  #  #  #