চার বইয়ের অনুমোদন, নতুন যুক্ত হওয়া এসব বইয়ে কী থাকছে

প্রথম পাতা » প্রধান সংবাদ » চার বইয়ের অনুমোদন, নতুন যুক্ত হওয়া এসব বইয়ে কী থাকছে
রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬



আগামী শিক্ষাবর্ষে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে দুটি করে মোট চারটি নতুন বই যুক্ত হচ্ছে। চতুর্থ শ্রেণির বই দুটি হলো ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ ও ‘খেলাধুলা’। আর ষষ্ঠ শ্রেণির বই দুটির নাম ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’ ও ‘আনন্দময় শিক্ষা’।

আজ রোববার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির (এনসিসিসি) পৃথক সভায় বই চারটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এনসিসিসি দুটি। একটি মাধ্যমিকের, আরেকটি প্রাথমিকের জন্য। প্রাথমিকের এনসিসিসিতে চতুর্থ শ্রেণির দুটি বই এবং মাধ্যমিকের এনসিসিসির সভায় ষষ্ঠ শ্রেণির বই দুটির অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে প্রয়োজনীয় পরিমার্জন সাপেক্ষে এ অনুমোদন দেওয়া হয় বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) একজন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেছেন, যে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, সে অনুযায়ী আগামীকালের (আজ সোমবার) মধ্যে পরিমার্জন করে বইগুলো চূড়ান্ত করা হবে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব আবদুল খালেক, প্রধান তথ্য কমিশনার নাহরিন ইসলাম খান, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী গিয়াস উদ্দিন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষাসচিব জেসমিন নাহার প্রমুখ।

এনসিটিবির সূত্রমতে, দুই শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য বই চারটি বাধ্যতামূলক হবে। তবে এসব বিষয়ে বার্ষিক পরীক্ষা নেওয়া হবে না; ধারাবাহিক মূল্যায়ন করা হবে। নতুন বইগুলোর মোট সংখ্যা দেড় কোটির বেশি। অনুমোদনের দিনেই বইগুলো ছাপার কাজ পাওয়া মুদ্রণকারীদের নোটিশ অব অ্যাওয়ার্ড (নোয়া) দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ষষ্ঠ শ্রেণির নতুন বই ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’র অন্যতম লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে কারিগরি শিক্ষার প্রতি আগ্রহ তৈরি করা। কয়েকটি অধ্যায়ে এটির বিষয়বস্তু সাজানো হয়েছে। অধ্যায়গুলো হলো কারিগরি শিক্ষা পরিচিতি, চারপাশের প্রযুক্তি ও নতুন বিশ্ব, যারা বানায় তারাই পৃথিবী বদলায়, সমস্যা ও সমাধান করি, ছোট উদ্যোগ বড় সম্ভাবনা, ভবিষ্যৎ পেশা ও দক্ষতা, সবুজ প্রযুক্তি ও টেকসই জীবনযাপন এবং শব্দকোষ।

* বই চারটি বাধ্যতামূলক হবে। তবে এসব বিষয়ে বার্ষিক পরীক্ষা নেওয়া হবে না; ধারাবাহিক মূল্যায়ন হবে। * বইগুলোর মোট সংখ্যা দেড় কোটির বেশি।

ষষ্ঠ শ্রেণির আরেক নতুন বই ‘আনন্দময় শিক্ষা’য় মূল্যবোধের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ বইও কয়েকটি অধ্যায়ে সাজানো। এর মধ্যে রয়েছে আমি ও আমরা, আমার পুষ্টি ও স্বাস্থ্যগত জীবনযাপন, প্রযুক্তির সঙ্গে খেলি, নতুন কিছু করি, পরিষ্কার থাকি পরিচ্ছন্ন রাখি, উদ্‌যাপনের দিনগুলো ও আনন্দে থাকি, আনন্দে রাখি।

চতুর্থ শ্রেণির নতুন বই ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’তে সংস্কৃতির ধারণা, ব্যক্তিজীবনে সংস্কৃতির প্রভাব, জাতীয়, ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব, বিজয় দিবস, একুশে ফেব্রুয়ারি এবং সাংস্কৃতিক চর্চার গুরুত্ব তুলে ধরা হবে। আর ‘খেলাধুলা’ বইয়ে আটটি খেলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেগুলো হলো ফুটবল, ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন, কাবাডি, দাবা, অ্যাথলেটিকস, সাঁতার ও মার্শাল আর্ট।

আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে ইতিহাসসহ বিভিন্ন বিষয়ে পরিবর্তন আনছে এনসিটিবি। এর মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর ও ব্রিগেড ফোর্স, বীরশ্রেষ্ঠদের জীবনী, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনা এবং নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ভূমিকা যুক্ত করার বিষয় রয়েছে।

এ ছাড়া নবম-দশম শ্রেণির বাংলা বইয়ে যুক্ত করা হচ্ছে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের লেখা ‘স্বাধীনতাযুদ্ধের স্মৃতি’ নিবন্ধ। পাশাপাশি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা-সম্পর্কিত বর্ণনাতেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও এ বিষয়ে পরিবর্তন আনা হয়েছিল। ফলে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের পাঠ্যবই, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সংশোধিত বই এবং বর্তমান বিএনপি সরকারের সময়ে প্রস্তুত করা বইয়ে স্বাধীনতার ঘোষণার বর্ণনা তিন ধরনের রূপ পাচ্ছে।

২০২৭ শিক্ষাবর্ষের ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বইয়ে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে দাঁড়িপাল্লার আইকন (ছবি) রাখা হয়েছিল। তবে এ নিয়ে বিতর্কের পর ছবিটি বাদ দিয়ে শিক্ষার্থীদের কাছে বইটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনসিটিবি।

এনসিটিবির একজন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, বইটির সংশ্লিষ্ট পাতাটি পরিবর্তন করে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে কোনো ছবি বা আইকন ছাড়াই বই ছাপানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মধ্যে যেসব বই ছাপিয়ে পাঠানো হয়েছিল, সেগুলো ফেরত এনে এবং সরবরাহের অপেক্ষায় থাকা বইগুলো সংশোধন করে দেওয়া হবে। আলাদা কোনো খরচ ছাড়াই মুদ্রণকারীরা ওই সংশোধন করে দিতে রাজি হয়েছেন। ফলে এনসিটিবির বাড়তি খরচ হবে না।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের পাঠ্যবইয়ে দাঁড়িপাল্লার ছবিটি ছিল না। আগামী বছরের পাঠ্যবইয়ের জন্য নতুন করে ছবিটি যুক্ত করা হয়েছিল। এ ঘটনার পর এনসিটিবির একজন কর্মকর্তাকে আজ খাগড়াছড়িতে বদলি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ওই কর্মকর্তা শিক্ষা ক্যাডারের সদস্য।

এদিকে কয়েকটি পাঠ্যবইয়ে নৌকার ছবি থাকা নিয়েও একটি পক্ষের মধ্যে বিতর্ক উঠেছে। তবে এ বিষয়ে এনসিটিবির একাধিক কর্মকর্তার দাবি, বিষয়বস্তু ও আধেয়র সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই ছবিগুলো ব্যবহার করা হয়েছে। আবহমান বাংলার সবুজ প্রকৃতি বোঝাতে নৌকা, ধান কাটা ও এ ধরনের প্রাসঙ্গিক দৃশ্য পাঠ্যবইয়ে রয়েছে। এসব ছবি এবারই প্রথম ব্যবহার করা হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে দুই দফায় এবং বর্তমান বিএনপি সরকারের আমলে আগামী শিক্ষাবর্ষের বই পরিমার্জনের সময়ও ছবিগুলো রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশ সময়: ২২:৪২:২৬   ১১ বার পঠিত   #  #  #  #  #  #  #  #




প্রধান সংবাদ’র আরও খবর


চার বইয়ের অনুমোদন, নতুন যুক্ত হওয়া এসব বইয়ে কী থাকছে
পূর্বাচল ও ঝিলমিলে ১,০৭৪ প্লট বরাদ্দে অনিয়ম, স্থগিত নথির কার্যক্রম
ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে পূর্ণ মন্ত্রীর ক্ষমতা পেলেন হুমায়ুন কবির
১৫০০ ফিলিস্তিনিকে বাস্তুচ্যুত করল ইসরায়েল, আরও ২৫০০ জনকে টার্গেট
তানজিন তিশার বিরুদ্ধে শাড়িকাণ্ডের মামলায় সিআইডিকে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ
সাংবাদিকদের পেটানোর হুমকি: এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীকে আইনি নোটিশ
গিয়ারে ত্রুটি: ৯৪টি হোন্ডা মোটরসাইকেল প্রত্যাহারের ঘোষণা সৌদির
শিশুকে ধর্ষণের দায়ে ইমামের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
সিঙ্গাপুর ও কাতার থেকে ৬ কার্গো এলএনজি কিনবে সরকার
সেন্ট মার্টিন ভ্রমণ শুরু ১ নভেম্বর, প্রতিদিন যেতে পারবেন সাড়ে ৩ হাজার পর্যটক

Law News24.com News Archive

আর্কাইভ