প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও কলেজ পর্যায়ে ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের অংশগ্রহণ বেশি থাকলেও উচ্চশিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে এই চিত্র ভিন্ন। বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) ২০২৫ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রাথমিক পর্যায়ে মেয়েদের হার ৫১.২ শতাংশ, মাধ্যমিকে ৫৪.৬৭ শতাংশ এবং কলেজ পর্যায়ে প্রায় ৫২ শতাংশ। তবে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে চিত্রটি বদলে যাচ্ছে। সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় মিলিয়ে মোট শিক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্রীর হার ৩৯.৩৪ শতাংশ। এর মধ্যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রীদের হার প্রায় ৪২ শতাংশ এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ৩৫ শতাংশ।
শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করেন, উচ্চশিক্ষার জন্য বাড়ির বাইরে থাকা, পর্যাপ্ত আবাসনের অভাব, নিরাপদ যাতায়াতের সীমাবদ্ধতা, পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য ও বিয়ের মতো বিষয়গুলো মেয়েদের উচ্চশিক্ষায় অংশগ্রহণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
কর্মক্ষেত্রেও নারীর অংশগ্রহণ প্রত্যাশিত নয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সরকারি কর্মচারীদের পরিসংখ্যান–২০২৫ অনুযায়ী, সরকারি চাকরিতে নারীর অংশগ্রহণ প্রায় ২৮.৮ শতাংশ। উচ্চপর্যায়ের পদে এই হার আরও কম। গ্রেড–১ পর্যায়ে কর্মরত কর্মকর্তাদের মধ্যে নারীর হার প্রায় ১৪.৭ শতাংশ এবং প্রথম থেকে নবম গ্রেড পর্যন্ত এই হার প্রায় ২২.৭ শতাংশ।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী বলেন,
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে আর্থিক সহায়তা, নিরাপদ আবাসন ও যাতায়াতের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি মেয়েরা কেন পিছিয়ে পড়ছেন, তা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। আর সরকারি চাকরিতে নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে সমান সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি কর্মপরিবেশকে আরও নারীবান্ধব করতে হবে। পরিবার ও পেশাগত দায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্য রাখার সুযোগ তৈরি করা গেলে নারীদের কর্মজীবনে অংশগ্রহণ ও তা অব্যাহত রাখার পথ আরও সহজ হবে।
বাংলাদেশ সময়: ১৩:৩০:৪৪ ৬ বার পঠিত #উচ্চশিক্ষা #নারী অধিকার #নারী শিক্ষা #ব্যানবেইস #শিক্ষা #সরকারি চাকরি