ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার মাছ চাষের পুকুরের পলি ও মাছের নমুনায় মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত করেছেন গবেষকেরা। আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী এনভায়রনমেন্টাল পলিউশন-এ প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, ২৫টি পুকুরের সব কটির পলিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক রয়েছে এবং মাছের নমুনায়ও এর উপস্থিতি পাওয়া গেছে। গবেষণায় নেতৃত্ব দিয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টের অধ্যাপক বদিউজ্জামান খান।
গবেষণায় প্রতি কেজি পলিতে গড়ে ১১ দশমিক ০৪টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। মাছের ক্ষেত্রে প্রতিটি মাছে গড়ে শূন্য দশমিক ৬০টি কণা শনাক্ত হয়েছে। প্রজাতিভেদে সরপুঁটি মাছে গড়ে ১ দশমিক ২০টি এবং রুই ও মৃগেল মাছে শূন্য দশমিক ৬৮টি কণা পাওয়া গেছে। গবেষকদের মতে, মাছের খাদ্য, খাবারের বস্তা, মাছ ধরার সরঞ্জাম এবং গৃহস্থালি বর্জ্য থেকে এসব কণা পুকুরে প্রবেশ করতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, রান্নার তাপেও মাইক্রোপ্লাস্টিক সহজে নষ্ট হয় না, যা মানুষের যকৃত ও কিডনির কার্যক্রমে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। জনস্বাস্থ্যবিদ মাহবুবুর রহমান বলেন, মাছের মাধ্যমে মাইক্রোপ্লাস্টিক মানুষের শরীরে পৌঁছানোর ঝুঁকি রয়েছে। তবে দূষণের মাত্রা ও দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব নিয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক আবদুস সালাম।
বাংলাদেশ সময়: ১৩:০০:০২ ৮ বার পঠিত #গবেষণা #জনস্বাস্থ্য #পরিবেশ দূষণ #মাইক্রোপ্লাস্টিক #মাছ চাষ #ময়মনসিংহ