ফ্রান্সে চলমান বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের পর আন্দোলনকারীরা নতুন কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন। আগামী ২৪ অক্টোবর ‘অ্যাক্ট টু’ নামে বিক্ষোভ এবং ২০ নভেম্বর ইউরোপজুড়ে সমন্বিত যুব ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়েছে। ফক্স নিউজ ডিজিটালের ২০ অক্টোবর প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এসব কর্মসূচির পেছনে যুক্তরাষ্ট্রসহ ১৩টি দেশে বিস্তৃত ১০১টি সংগঠনের একটি নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে।
ফক্স নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই নেটওয়ার্কে কমিউনিস্ট, সমাজতান্ত্রিক, উগ্র-বামপন্থী, শ্রমিক অধিকার, পরিবেশবাদী ও ফিলিস্তিনপন্থী বিভিন্ন সংগঠন রয়েছে। ফক্স নিউজ এদের সম্মিলিত তৎপরতাকে ‘রেড-গ্রিন’ বা ‘লাল-সবুজ’ নেটওয়ার্ক হিসেবে বর্ণনা করেছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এই নেটওয়ার্কের ৩৩টি সংগঠন মূলত শিক্ষার্থী ও তরুণদের নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে। বিক্ষোভের স্থান চিহ্নিত করতে একটি ডিজিটাল মানচিত্র ব্যবহার করা হচ্ছে, যেখানে ফ্রান্সের বিভিন্ন এলাকায় ২১২টি কর্মসূচির স্থান চিহ্নিত রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া ৩১ অক্টোবর ‘অ্যাক্ট থ্রি’ নামে হলুদ ভেস্ট পরিহিত বিক্ষোভকারীদের সড়ক ও গোলচত্বর অবরোধের পরিকল্পনা রয়েছে। ২০ নভেম্বর ইউরোপজুড়ে যুব ধর্মঘটের স্লোগান হিসেবে ‘ফাইট ফর আওয়ার ফিউচার, নট দেয়ার ওয়ারস’ ব্যবহার করা হচ্ছে। আন্দোলনকারীদের দাবির মধ্যে রয়েছে অর্থনৈতিক বৈষম্য, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, আবাসন সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন এবং সামরিক খাতে ব্যয়ের বিরোধিতা। ফক্স নিউজের দাবি, কিছু সংগঠন ও প্ল্যাটফর্ম ফ্রান্সের বিক্ষোভের খবর প্রচার এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জোগানোর সঙ্গে যুক্ত। তবে প্রতিবেদনে উল্লিখিত সব সংগঠন সরাসরি সহিংসতা সংগঠিত করেছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো তথ্য এতে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ফ্রান্সের সরকার বিক্ষোভের সময় সহিংসতা ও ভাঙচুরের নিন্দা জানিয়েছে এবং প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সহিংসতায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন।
বাংলাদেশ সময়: ১২:৫১:০৯ ৮ বার পঠিত #আন্তর্জাতিক #ফক্স নিউজ #ফ্রান্স #বিক্ষোভ #ম্যাক্রোঁ #যুব ধর্মঘট