হরমুজ প্রণালী ঘিরে চলমান সংকটের কারণে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরগুলোতে বাণিজ্যিক কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে তেল রপ্তানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানির জন্য তেহরান এখন কাস্পিয়ান সাগর ও উত্তরাঞ্চলীয় উপকূলকে গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প রুট হিসেবে বিবেচনা করছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পথে বাণিজ্য বাড়াতে ইরানকে বেশ কিছু লজিস্টিক ও অবকাঠামোগত সমস্যার মোকাবিলা করতে হবে।
কাস্পিয়ান সাগরের পানির স্তর গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় নৌযান চলাচল ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠেছে। জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯০-এর দশকের পর থেকে পানির স্তর প্রায় ২ মিটার কমেছে।
ইরানের শিপিং অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব মাসুদ পোলমেহ জানান, পানির স্তর কমে যাওয়ায় উত্তরাঞ্চলীয় বন্দরগুলোতে এখন বড় জাহাজের পরিবর্তে ছোট জাহাজ পরিচালনা করতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে রাশিয়ার ভলগা নদী হয়ে আসা জাহাজগুলোও পানির স্বল্পতার কারণে আটকে পড়ছে। এদিকে, দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরগুলোতে সামুদ্রিক অবরোধ ও সামরিক হামলার ফলে স্থলসীমান্তের ওপর নির্ভরতা বাড়াতে হয়েছে তেহরানকে। এর ফলে আর্মেনিয়ার সঙ্গে সংযুক্ত নোরদুয সীমান্তসহ অন্যান্য টার্মিনালে পণ্যবাহী ট্রাকের দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়েছে। গবেষক ভালি কালেজির মতে, সীমান্ত টার্মিনালের সীমিত সক্ষমতা, কাস্টমস প্রক্রিয়া এবং সড়ক অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। যদিও ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাত শুরুর আগের তুলনায় অত্যাবশ্যকীয় পণ্য পরিবহনে উত্তরাঞ্চলীয় বন্দরগুলোর অংশ ১৮ শতাংশ থেকে বেড়ে প্রায় ৩০ শতাংশ হয়েছে, তবুও স্বল্পমেয়াদে পুরো বাণিজ্য কাঠামো দক্ষিণে সরিয়ে নেওয়া ইরানের জন্য সহজ হবে না বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বাংলাদেশ সময়: ১৪:২২:১২ ১০ বার পঠিত #ইরান #ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক #কাস্পিয়ান সাগর #তেল রপ্তানি #বাণিজ্য #ভূরাজনীতি #হরমুজ প্রণালি