ধর্ষণ-হত্যায় মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমেছে হাইকোর্টে বিচার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি ৯ বছরেও

প্রথম পাতা » জাতীয় » ধর্ষণ-হত্যায় মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমেছে হাইকোর্টে বিচার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি ৯ বছরেও
সোমবার, ৮ জুন ২০২৬



বিচার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি ৯ বছরেও

প্রায় ৯ বছর আগে টাঙ্গাইলে চলন্ত বাসে তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচারিক আদালতের রায় আসে মাত্র ৫ মাসে। কিন্ত উচ্চ আদালতে ডেথ রেফারেন্স শুনানিতে সময় লাগে ৭ বছর। ২০২৫ সালে ফেব্রুয়ারিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চারজনের মধ্যে তিন আসামির সাজা কমিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ সুপ্রিমকোর্টে আবেদন করেছে। আজও সেই আপিলের শুনানি হয়নি। মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছেন ভুক্তভোগীর পরিবার ও বিচারসংশ্লিষ্টরা।

সম্প্রতি মিরপুরে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার বিচার দাবিতে দেশজুড়ে চলছে প্রতিবাদী কর্মসূচি ও বিক্ষোভ। এর মধ্যেই ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে দেখা করে দ্রুত ন্যায়বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারের এই সদিচ্ছার পরও সাধারণ মানুষের মনে কাটছে না শঙ্কা। বিগত সময়ের বিভিন্ন মামলা পর্যালোচনা করে অনেকেই রামিসা হত্যার দ্রুত বিচার প্রাপ্তি নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করছেন। কারণ, দেশে এমন বহু আলোচিত ও স্পর্শকাতর অপরাধের বিচারিক প্রক্রিয়া বছরের পর বছর ধরে ঝুলে রয়েছে, এমনকি চূড়ান্ত সাজা কার্যকর হতেও কেটে যাচ্ছে বছরের পর বছর। বহুল আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর চাঁদপুরের ‘সিরিয়াল কিলার’ রসু খাঁর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা, নুসরাত জাহান রাফি হত্যা, বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যা, নারায়ণগঞ্জের সাত খুনসহ বেশ কয়েকটি চাঞ্চল্যকর মামলার চূড়ান্ত বিচার আটকে আছে সুপ্রিমকোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগে। জানতে চাইলে সুপ্রিমকোর্টের অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনিক আর হক ২৫ মে গণমাধ্যমকে বলেন, শিগ্গিরই আপিল বিভাগে রসু খাঁর মামলার শুনানি হতে পারে। টাঙ্গাইলে চলন্ত বাসে তরুণীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যা মামলাটি কোন অবস্থায় আছে, তা খোঁজ নিয়ে শুনানির ব্যবস্থা করতে হবে।

আপিল শুনানির অপেক্ষায় চলন্ত বাসে তরুণীকে ধর্ষণ-হত্যা মামলা : শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা দিয়ে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট বগুড়া থেকে ময়মনসিংহে যাচ্ছিলেন এক তরুণী। চলন্ত বাসে তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করে মধুপুর বন এলাকায় ফেলে দেওয়া হয়। আলোচিত এই ধর্ষণ-হত্যা মামলায় বিচারিক আদালত ২০১৮ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি রায় দেন। রায়ে বাসচালক হাবিবুর, চালকের সহকারী শামীম, আকরাম ও জাহাঙ্গীরকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। আর বাসের সুপারভাইজার সফর আলীকে ৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ফৌজদারি কোনো মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ে কারও মৃত্যুদণ্ড হলে, তা কার্যকরে হাইকোর্টের অনুমোদন লাগে, যেটি ডেথ রেফারেন্স মামলা হিসাবে পরিচিত। বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে বাসচালক, সুপারভাইজার, হেলপারসহ দণ্ডিত পাঁচ আসামি আপিল করেন। ডেথ রেফারেন্স ও এসব আপিলের ওপর শুনানি শেষে ২০২৫ সালের ২৮ জানুয়ারি রায় দেন হাইকোর্ট।

জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মাসুদ রানা ২৪ মে গণমাধ্যমকে বলেন, বিচারিক আদালতের রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামির মধ্যে তিন আসামির সাজা কমিয়ে রায় দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। তাদের মধ্যে দুজনের যাবজ্জীবন ও একজনের ৭ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে। বিচারিক আদালতের রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর আসামি আকরাম মারা গেছেন। অপর তিনজনের মধ্যে হেলপার শামীম ও জাহাঙ্গীরকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১ লাখ টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন হাইকোর্ট। মৃত্যুদণ্ডের সাজা পরিবর্তন করে বাসচালক হাবিব মিয়াকে ৭ বছর কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ২ মাসের কারাদণ্ড দেন আদালত। বিচারিক আদালতের রায়ে বাসের সুপারভাইজার সফর আলীকে ৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল, যা বহাল রয়েছে। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করা হয়েছে, এখনো শুনানি হয়নি।

এদিকে ২০২৪ সালের ৯ জুলাই চাঁদপুরে আলোচিত পারভীন হত্যা মামলায় ক্রমিক খুনি রসু খাঁর মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রাখেন হাইকোর্ট। এ মামলায় দণ্ডিত অপর দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এর আগে ২০১৮ সালের ৬ মার্চ বিচারিক আদালতের রায়ে রসু খাঁসহ এই তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তিন আসামির মধ্যে রসু খাঁ ও জহিরুল কারাগারে আছেন আর ইউনুছ পলাতক রয়েছেন। এ মামলার আপিল নিষ্পত্তি না হওয়ায় দণ্ড কার্যকর করা সম্ভব হচ্ছে না।

চাঞ্চল্যকর মামলাগুলো দ্রুত বিচার নিশ্চিতে সুপ্রিমকোর্টে বিশেষ বেঞ্চ গঠনের দাবি জানিয়েছেন সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। তিনি ২৪ মে গণমাধ্যমকে বলেন, বছরের পর বছর বিচার শেষ হয় না। তাই দ্রুত বিচারের নিশ্চয়তা দিতে হবে। উচ্চ আদালতে আপিল শুনানির দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে তিনি বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতনসহ চাঞ্চল্যকর মামলার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে মামলার বিশাল জট কমাতে উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগ প্রয়োজন।

বাংলাদেশ সময়: ২৩:৪৪:৫১   ৮২ বার পঠিত  




জাতীয়’র আরও খবর


লিগ্যাল এইডের এডিআরের মাধ্যমে ২ লাখ ১১৪৪১ মামলার নিষ্পত্তি
মামলাপূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রম আশাব্যঞ্জক ফল দিচ্ছে : আইনমন্ত্রী
জুস, শ্যাম্পু, আইসক্রিম, লোশনসহ ৮ ধরনের পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ বিএসটিআইয়ের
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলা গ্রেপ্তার মেজর মোজাফফরের বিচার হবে সামরিক আদালতে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সরকার চায় রাষ্ট্রের ব্যয় কমাতে এয়ারশো দেখতে বিদেশে বিমানের শীর্ষ ৫ কর্তা
ই-পাসপোর্টে যুক্ত হচ্ছে আবু সাঈদ-মুগ্ধ-ওয়াসিমের ছবি
আন্তঃদেশীয় অপরাধ সম্মেলনে যোগ দিতে থাইল্যান্ডের পথে আইজিপি
আইনি কাঠামোর মধ্যেই শেখ হাসিনার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে : আইনমন্ত্রী
১০ হাজার পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগের পরিকল্পনা সরকারের
সংসদে প্রধানমন্ত্রী সব সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আসছে ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’

Law News24.com News Archive

আর্কাইভ