শনিবার, ৬ জুন ২০২৬

সংসদীয় দলের সভা শেষে চিফ হুইপ সরকারি সেবার সুফল জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে এমপিদের নির্দেশনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রথম পাতা » জাতীয় » সংসদীয় দলের সভা শেষে চিফ হুইপ সরকারি সেবার সুফল জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে এমপিদের নির্দেশনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী
শনিবার, ৬ জুন ২০২৬



সরকারি সেবার সুফল জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে এমপিদের নির্দেশনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, সরকারি দলের বৈঠকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের জনগণের কাছে সরকারি সেবার সুফল পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে নজরদারি জোরদার, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার অব্যাহত রাখা, যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়ন, বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি বজায় রাখা এবং সময়ের প্রয়োজনে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

শনিবার সংসদ ভবনে সরকারি দলের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন চিফ হুইপ। তিনি বলেন, বৈঠকে সাতজন মন্ত্রী নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম, সমস্যা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন। শিক্ষা খাতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে পাঠ্যক্রমকে আরও যুগোপযোগী ও হালনাগাদ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে মিড-ডে মিল কার্যক্রম আরও বিস্তৃত ও মানসম্মত করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলে তরুণদের কর্মসংস্থানের উপযোগী করে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন।

স্বাস্থ্য খাত নিয়ে আলোচনায় ডেঙ্গুসহ মৌসুমি রোগ মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতির বিষয়টি গুরুত্ব পায়। চিফ হুইপ বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করেছে। হাম ও ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। হাসপাতাল অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং নতুন হাসপাতাল স্থাপনের কাজও এগিয়ে চলছে। স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে সরকার ধারাবাহিকভাবে পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও তিনি জানান।

যোগাযোগ খাত নিয়ে তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সড়ক, সেতু ও অবকাঠামো উন্নয়নের একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। ঢাকা-সিলেটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের উন্নয়নকাজ এগিয়ে চলছে। পাশাপাশি পরিবহন টার্মিনাল, পানি উন্নয়ন এবং বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়িত হলে কৃষি উৎপাদন ও সেচ ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। বিদ্যুতের মূল্য সমন্বয় প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, অধিকাংশ গ্রাহকের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করেই সীমিত পরিসরে মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। তার দাবি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট, ডলারের মূল্যবৃদ্ধি এবং আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। এরপরও সরকার বিপুল ১ লাখ কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ কমানোর চেষ্টা করছে। তিনি আরও জানান, বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলেও ৬৬ শতাংশ গ্রাহকের দাম বাড়েনি। যারা ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন, তাদের বাড়বে না।

আইন ও বিচার ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিচারপ্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল করতে সরকার কাজ করছে। শিশু নির্যাতনসহ গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও জনগণের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, রামিসা হত্যাকাণ্ডটি প্রধানমন্ত্রীর কাছে খুবই স্পর্শকাতর। এটি দ্রুততম সময়ের মধ্েয মামলাটি নিষ্পত্তি হচ্ছে। রোববার মামলাটির রায় ঘোষণা করা হবে বলেও তিনি জানান।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম তুলে ধরে চিফ হুইপ বলেন, মাদক ও অপরাধের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং অপরাধ দমনে চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প ও সেবার বাস্তব অবস্থা তদারকির নির্দেশ দিয়েছেন। কোথাও স্কুলে শিক্ষক অনুপস্থিত থাকলে, হাসপাতালে সেবা ব্যাহত হলে বা সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে গাফিলতি থাকলে তা দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে এনে সমাধানের উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য শুধু প্রকল্প গ্রহণ নয়, বরং জনগণ যাতে তার বাস্তব সুফল পায় তা নিশ্চিত করা।

আসন্ন বাজেট অধিবেশন প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, সংসদে বাজেট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা শেষে নির্ধারিত সময়ে তা পাস করা হবে। প্রতি বছর বাজেট নিয়ে নানা ধরনের সমালোচনা হলেও সীমিত সম্পদের মধ্যেই জনগণের সর্বোচ্চ কল্যাণ নিশ্চিত করার চেষ্টা করে সরকার। তিনি বলেন, দেশের আর্থিক বাস্তবতা ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সরকার অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় কাজ করছে। সংবিধান সংশোধন নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সময়ের প্রয়োজনে সংবিধান সংশোধন করা হয় এবং বাংলাদেশেও অতীতে একাধিকবার তা হয়েছে। সংবিধানের মৌলিক কাঠামো ও মৌলিক অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো আইন টেকসই হতে পারে না। প্রয়োজনীয় সংস্কার ও সময়োপযোগী পরিবর্তনের জন্য সংসদীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান। বিরোধী দলের অংশগ্রহণের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে চিফ হুইপ বলেন, জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে আলোচনা ও ঐকমত্যের ভিত্তিতেই এগিয়ে যাওয়া উচিত। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় সব পক্ষ গঠনমূলক ভূমিকা রাখবে।

মন্ত্রীদের কার্যক্রম নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মূল্যায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিয়মিতভাবে প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের কাজ পর্যালোচনা করেন এবং কোথাও ত্রুটি বা দুর্বলতা থাকলে তা সংশোধনের নির্দেশ দেন। প্রশাসনের কার্যক্রম আরও জনমুখী ও কার্যকর করতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে এবং জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

বাংলাদেশ সময়: ২১:৫৪:৫১   ১৫ বার পঠিত