![]()
এশিয়াটিক গ্রুপের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অর্থপাচার ও কর ফাঁকির অভিযোগ তদন্তে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে দেওয়া হাইকোর্টের নির্দেশনা স্থগিত চেয়ে করা আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে বিষয়টি হাইকোর্টের যথাযথ বেঞ্চে পুনরায় নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী-এর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
এর আগে গত বছরের ২৯ জুলাই বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি সৈয়দ জাহেদ মনসুর-এর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক আদেশে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)-কে এশিয়াটিক গ্রুপের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।
রিট আবেদনে অভিযোগ করা হয়, মুজিববর্ষ, ‘মুজিব’ সিনেমা, রাজনৈতিক প্রচারণা কার্যক্রম, আর্থিক অনিয়ম, অর্থপাচার এবং কর ফাঁকির মতো বিষয়ে এশিয়াটিক গ্রুপের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। সেই নিষ্ক্রিয়তা চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদন দায়ের করেন ব্যারিস্টার সাব্বির আজম ও আইনজীবী মোঃ ফিরোজ হোসেন।
আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শফিকুর রহমান এবং তানিম খান।
পরে গত বছরের আগস্টে এশিয়াটিক গ্রুপ হাইকোর্টের ওই আদেশ চ্যালেঞ্জ করে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করে। ২৮ আগস্ট চেম্বার জজ আদালত সংক্ষিপ্ত আদেশে হাইকোর্টের নির্দেশনা স্থগিত করে বিষয়টি পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠান। পরবর্তীতে পূর্ণাঙ্গ শুনানি শেষে আপিল বিভাগ এশিয়াটিকের আবেদন নামঞ্জুর করেন।
রিটে এশিয়াটিক গ্রুপের ১৭টি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার নাম উল্লেখ করা হয়। তাদের মধ্যে রয়েছেন আসাদুজ্জামান নূর, ইরেশ যাকের, সারা যাকের, মোর্শেদ আলম, রেজাউল হাসান, ইকরাম মইন চৌধুরী এবং মোহাম্মদ হাসান ফারুক।
উল্লেখ্য সম্প্রতি লইয়ার্স এগেইনস্ট করাপশন এন্ড এবিউস (LACA) নামক সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের একটি সংগঠন সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানায় বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে এশিয়াটিক গ্রুপের বিজ্ঞাপন প্রচারণার কর্মকান্ডে গ্রামীণ ফোন, ইউনিলিভার, বাংলালিংক, বিকাশ, বিএস আর এম, মারিকো সহ বিভিন্ন দেশী বিদেশি কোম্পানির তহবিল ব্যবহারের অভিযোগ তুলেন এবং হাই কোর্টে চলমান মামলায় তারা পক্ষভুক্ত হবেন।
বাংলাদেশ সময়: ০:১৪:১৩ ১৩ বার পঠিত