![]()
সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) আইন চ্যালেঞ্জ করা রিটের শুনানি আপাতত হচ্ছে না। তিন মাসের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের জন্য ‘স্বতন্ত্র সচিবালয়’ প্রতিষ্ঠার নির্দেশনা দিয়ে সাত মাস আগে হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছিলেন, সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এ তথ্য জানানোর পর রিট আবেদনটি শুনানি মুলতবি রাখার আদেশ দেন বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের বেঞ্চ।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানির জন্য ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।
রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ ও মোহাম্মদ অনীক রুশদ হক।
শুনানি মুলতবি করার পর অ্যাটর্নি জেনারেল সাংবাদিকদের বলেন, ‘হাইকোর্টের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ জারি করেছিল সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার। যে মামলায় এই রায় এসেছিল, সেই মামলাটির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো হয়নি। যে কারণে আদালতকে আমরা বলেছি, চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এই রিটে শুনানি সমীচীন হবে না।
গত ৭ এপ্রিল ১৮৫ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়টি প্রকাশ করা হয়েছে। এই রায়ের বিরুদ্ধে আমরা আপিলের প্রস্তুতি নিচ্ছি। শিগগিরই আপিল করা হবে।’
রিটকারী পক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, ‘রাষ্ট্রপক্ষ বলেছে আগামীকালের (মঙ্গলবার) মধ্যে আপিল করবে।
আদালতের প্রত্যাশা এই সময়ের মধ্যে সচিবালয়ের যে স্থাপনা আছে, সেগুলোকে সুপ্রিম কোর্টের প্রতি সম্মান জানিয়ে যেন সরিয়ে ফেলা না হয়। অ্যাটর্নি জেনারেল আদালতকে বলেছেন, তিনি আদালতের প্রত্যাশা শুনেছেন এবং এটি কনভে করবেন।’
এক রিট মামলায় চূড়ান্ত শুনানির পর গত বছর ২ সেপ্টেম্বর রায় দেন উচ্চ আদালত। রায়ে তিন মাসের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের জন্য ‘স্বতন্ত্র সচিবালয়’ প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দেওয়া হয়। এই রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে তিন মাসের মধ্যে গত বছর ৩০ নভেম্বর ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার।
অধ্যাদেশ জারির পরদিনই, অর্থাৎ গত ১ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকীকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে সচিবালয়ের সচিবের দায়িত্ব দেন তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ। ওই দিনই সচিবালয়ের জন্য পদ সৃষ্টি, বিলোপ বা বিন্যাসে সংক্রান্ত ‘পদ সৃজন’ কমিটি গঠন করা হয়। পরে ১০ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্ট জামে মসজিদ সংলগ্ন ৪ নম্বর প্রশাসনিক ভবনে সচিবালয় উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ। ওই ভবনেই চলে আসছিল সচিবালয়ের কাজ। এর মধ্যে গত ৯ এপ্রিল বিরোধী দলের আপত্তি নাকচ করে ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) বিল’ পাস করা হয় সংসদে। এই বিল পাশের পর গত রবিবার ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) আইন’ চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্ট রিট করেন সাত আইনজীবী, যা গতকাল শুনানিতে ওঠার পর মুলতবি করেন হাইকোর্ট। রিটে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়ের চলমান কার্যক্রমে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশনা চাওয়ার পাশাপাশি রহিত করা আইনটি কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে রুল চাওয়া হয়। আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিবকে রিটে বিবাদী করা হয় রিটে।
বাংলাদেশ সময়: ০:৫৩:২০ ১১ বার পঠিত