জ্বালানিসংকট রোববার থেকে নতুন সময়ে অফিস-ব্যাংক, মার্কেট বন্ধ সন্ধ্যা ৬টায়

প্রথম পাতা » জাতীয় » জ্বালানিসংকট রোববার থেকে নতুন সময়ে অফিস-ব্যাংক, মার্কেট বন্ধ সন্ধ্যা ৬টায়
রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬



রোববার থেকে নতুন সময়ে অফিস-ব্যাংক, মার্কেট বন্ধ সন্ধ্যা ৬টায়

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানিসংকটের প্রেক্ষাপটে সরকারি-বেসরকারি অফিসের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত রোববার থেকে অফিস চলবে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। স্বাভাবিক সময়ে সকাল নয়টা থেকে বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত অফিস চলে।

শনিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, দেশের সব সরকারি ও বেসরকারি অফিস রোববার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলবে। শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি।

জরুরি পরিষেবাগুলো নতুন অফিস সময়সূচির আওতার বাইরে থাকবে। আদালতের সময়সূচি নির্ধারণে সুপ্রিম কোর্ট প্রয়োজনীয় নিদের্শেনা দেবেন। আর বেসরকারি খাতের শিল্পপ্রতিষ্ঠান বা কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠানের জন্য কর্মঘণ্টা নির্ধারণের ক্ষেত্রে শ্রম আইন অনুযায়ী শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় নির্দেশনা দেবে।

জরুরি পরিষেবা বলতে সাধারণত বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, বন্দরগুলোর কার্যক্রম, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট, ডাকসেবা এবং এ-সংশ্লিষ্ট সেবা কাজে নিয়োজিত যানবাহন ও কর্মী, হাসপাতাল, চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক ও কর্মী, ওষুধসহ চিকিৎসা সরঞ্জামাদি বহনকারী যানবাহন ও কর্মী, গণমাধ্যম ইত্যাদিকে বোঝোনা হয়।

ব্যাংকের লেনদেন সকাল ১০টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত

ব্যাংকের সময়সূচিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। রোববার থেকে দেশের তফসিলি ব্যাংকগুলোর লেনদেনের সময়সীমা এক ঘণ্টা কমানোর নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকার ঘোষিত পরিবর্তিত অফিস সময়সূচি অনুসারে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত রোববার থেকে সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত অফিস চলবে। আর ব্যাংকের লেনদেন চলবে সকাল ১০টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত। শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি বলবৎ থাকবে। তবে সমুদ্র, স্থল ও বিমানবন্দর এলাকার ব্যাংকের শাখা, উপশাখা এবং বুথ আগের মতো ২৪ ঘণ্টা চালু থাকার নির্দেশনা বলবৎ থাকবে।

বিপণিবিতান, অফিস ভবন, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ সন্ধ্যা ছয়টায়

সরকারের সিদ্ধান্ত হলো জরুরি সেবা ব্যতীত সব বিপণিবিতান (মার্কেট), অফিস ভবন, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান সন্ধ্যা ছয়টায় বন্ধ করতে হবে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনে দোকান ও শপিং মল ব্যবসায়ী মালিক সমিতির নেতারা বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা রাত আটটা পর্যন্ত দোকান ও শপিং মল খোলার দাবি জানান। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আপাতত সন্ধ্যা ছয়টার মধ্যেই দোকান ও শপিং মল বন্ধের সিদ্ধান্ত বলবৎ থাকবে।
এর আগে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য ২০২২ সালের ১৫ নভেম্বর থেকে সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের অফিস সময় সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন পর ২০২৪ সালে জুনে আবার স্বাভাবিক সময়ে, অর্থাৎ ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত অফিস করা হয়। এখন বৈশ্বিক জ্বালানিসংকটের কারণে আবার অফিস সময় এক ঘণ্টা কমলো।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়ে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরবর্তী মন্ত্রিসভা-বৈঠকে প্রস্তাব উপস্থাপন করবে বলে শুক্রবার তথ্য বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছিল।

এর আগে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেছিলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আলাদা নির্দেশনা দেবে। কারণ, এ বিষয়ে কিছু ক্ষেত্রে আলোচনার দরকার আছে। পরিস্থিতি বিবেচনা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় রোববার স্কুল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান-সংক্রান্ত আলাদা নির্দেশনা দেয়া শুরু করবে বলেও তিনি জানিয়েছিলেন। তবে শিক্ষা কার্যক্রম যেন ব্যাহত না হয়, তা বিবেচনায় রাখা হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা ছিল, আপাতত সপ্তাহে ছয় দিন ক্লাস নেয়া। যার মধ্যে জোড়-বিজোড় মিলিয়ে তিন দিন অনলাইন এবং তিন দিন সশরীর পাঠদানের প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে, অর্থাৎ এক দিন অনলাইনে ক্লাস হলে পরদিন সশরীর ক্লাস নেয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। অনলাইনে ক্লাস হলেও শিক্ষকেরা সশরীর উপস্থিত থেকে পাঠদান করবেন। ব্যবহারিক ক্লাস হবে সশরীর।

তবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কার্যকরভাবে অনলাইনে ক্লাস নেয়া বেশ কঠিন হবে বলে মনে করছেন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা। ঢাকার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন প্রধান শিক্ষক আজ প্রথম আলোকে বলেন, ঢাকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রমজীবী ও দরিদ্র পরিবারের সন্তানেরা পড়ে। তাদের সবাইকে অনলাইনে ক্লাসের আওতায় আনা অসম্ভব। এর আগে করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতির কারণে অনলাইনে ক্লাসের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। তখন বাস্তবে তাঁদের বিদ্যালয়ে অধিকাংশ শিক্ষার্থীকে অনলাইন ক্লাসে আনা যায়নি।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র বলেছে, তারাও মনে করে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীকে নিয়ে অনলাইনে ক্লাস নেওয়া কঠিন। এ জন্য খোলা রেখে কীভাবে সমস্যাটি সমাধান করা যায়, সেই চিন্তা তাদেরও আছে। তবে সিদ্ধান্তটি আসবে মন্ত্রিপরিষদ থেকে।

পবিত্র রমজান, ঈদুল ফিতরসহ বিভিন্ন উপলক্ষে প্রায় ৪০ দিনের ছুটির পর গত ২৯ মার্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলেছে। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানিসংকটে পড়েছে অনেক দেশ, যার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে জ্বালানির ওপর চাপ কমাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আংশিক অনলাইন পাঠদান চালুর বিষয়টি সামনে এসেছে।

বাংলাদেশ সময়: ০:২৮:১০   ১২ বার পঠিত  




জাতীয়’র আরও খবর


জ্বালানিসংকট রোববার থেকে নতুন সময়ে অফিস-ব্যাংক, মার্কেট বন্ধ সন্ধ্যা ৬টায়
হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৪ শিশুর মৃত্যু, স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল
মেয়েকে নিয়ে ‘প্রজেক্ট হেইল মেরি’ ছবি দেখলেন প্রধানমন্ত্রী
অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩৩ অধ্যাদেশের কোনগুলো বাদ, আর কোনগুলো থাকছে
জ্বালানি সাশ্রয়ে কমলো অফিসের সময়, দোকান ও মার্কেট বন্ধ সন্ধ্যা ৬টায়
আইনগত সহায়তা কেন্দ্রের মহাপরিচালক হলেন মঞ্জুরুল হোসেন
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৩৩ অধ্যাদেশ ৪টি বাতিল, ১৬টি অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের সুপারিশ
সব ধরনের সংস্কার সংবিধানের কাঠামোর ভেতরেই হবে: আইনমন্ত্রী
নজরদারিতে অনেকে, চাঞ্চল্যকর তথ্য দীর্ঘ হচ্ছে কুশীলবদের তালিকা
বিচারকের সিল-স্বাক্ষর জাল করে পাঠানো হচ্ছে ভুয়া গ্রেফতারি পরোয়ানা

Law News24.com News Archive

আর্কাইভ