এক বাড়িতে এত অস্ত্র, গ্রেপ্তার কে এই দীপু

প্রথম পাতা » রাজধানী » এক বাড়িতে এত অস্ত্র, গ্রেপ্তার কে এই দীপু
রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬



এক বাড়িতে এত অস্ত্র, গ্রেপ্তার কে এই দীপু

রাজধানীর মধ্য বাড্ডার বেপারিপাড়া এলাকার একটি বাড়ি থেকে শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী মেহেদী হাসান ওরফে দীপুকে গ্রেপ্তার করেছে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বাধীন যৌথ বাহিনীর একটি বিশেষ দল। পুলিশ বলছে, বাড়িটি মেহেদী হাসানেরই।  ওই বাড়ির তিনতলার একটি ফ্ল্যাট থেকে ১১টি অত্যাধুনিক বিদেশি অস্ত্র ও ৩৯৪টি গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বাড্ডা অঞ্চলের সহকারী কমিশনার আসাদুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, গত শুক্রবার মেহেদী হাসানকে অস্ত্র, গুলিসহ গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে একটি মামলা হয়েছে।  তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের হয়ে রামপুরা,বনশ্রী, বাড্ডা, ভাটারা, বারিধারা ও গুলশান এলাকার অপরাধজগৎ নিয়ন্ত্রণ করে আসছিলেন মেহেদী হাসান দীপু। মেহেদী ও তাঁর সহযোগীদের কাছে আরও অস্ত্র রয়েছে। অস্ত্রগুলো মূলত সুব্রত বাইন ও আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী মোল্লা মাসুদের। গত বছরের মে মাসে কুষ্টিয়া শহরে যৌথ বাহিনী অভিযানে সুব্রত বাইন ও মোল্লা মাসুদকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে সুব্রত বাইনের হয়ে অপরাধজগৎ নিয়ন্ত্রণ করে আসছিলেন মেহেদী হাসান।

পুলিশ জানায়, মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তার মেহেদী হাসান সুব্রত বাইনের সহযোগী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বাড্ডা, ভাটারাসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অস্ত্র-গোলাবারুদ বিক্রি করে আসছিলেন।

নব্বইয়ের দশকে ঢাকার অপরাধজগতের আলোচিত নাম ছিল সুব্রত বাইন। আধিপত্য বিস্তার করে দরপত্র নিয়ন্ত্রণ ও বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজিতে তাঁর নাম আসা ছিল তখনকার নিয়মিত ঘটনা। এসব কাজ করতে গিয়ে অসংখ্য খুন-জখমের ঘটনাও ঘটেছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র বলছে, সুব্রত বাইনের সহযোগী হিসেবে মেহেদী হাসান, ওয়াসির মাহমুদ সাঈদ ওরফে বড় সাঈদ, গোলাম মর্তুজা বাবু ওরফে মধু বাবু, সোহেল ওরফে কান্নি সোহেল কাজ করেন। গত এক বছরে এঁরা একাধিক খুনের ঘটনা ঘটিয়েছেন। এর মধ্যে গত বছরের ২০ মার্চ গুলশানের পুলিশ প্লাজার সামনে ইন্টারনেট সংযোগের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত সুমন নামের এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ওয়াসির মাহমুদ সাঈদকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের দুই মাস পর জামিনে বেরিয়ে আসেন সাঈদ।

মেহেদী হাসানের সঙ্গে বাড্ডা ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মো. জাহাঙ্গীর আলম ও তাঁর ভাই আলমগীরেরও ঘনিষ্ঠতা রয়েছে বলে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, ৫ আগস্টের পর প্রকাশ্যে আসেন সুব্রত বাইন। প্রতিবেশী দেশ থেকে বেশ কিছু অস্ত্র সংগ্রহ করেন। পরে তিনি এলাকায় আধিপত্য বিস্তার শুরু করেন। মেরুল বাড্ডার আবাসিক এলাকার ভেতরে থাকা একটি মাছের আড়ত থেকেই দিনে কয়েক লাখ টাকা চাঁদা তুলতেন সুব্রত বাইন ও তাঁর সহযোগীরা। সুব্রত বাইন গ্রেপ্তারের পর মাছের আড়তটি নিয়ন্ত্রণ করতেন মেহেদী হাসান। এ ছাড়া গাড়ির শো রুমে, তৈরি পোশাক কারখানায়সহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি ও ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করতেন তিনি।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি সূত্র বলছে, বাড্ডা, ভাটারাসহ বিভিন্ন এলাকায় ভাড়াটে খুনি হিসেবে কাজ করতেন মেহেদী হাসান ও তাঁর সহযোগীরা। তাঁরা বিভিন্ন এলাকার সন্ত্রাসীদের কাছে অস্ত্রও ভাড়া দিতেন। সুব্রত বাইনের অস্ত্রগুলো মেহেদী হাসান ও গোলাম মর্তুজা বাবু ওরফে মধু বাবুর কাছে রয়েছে। মধু বাবুর কাছেও আরও ১৩ থেকে ১৪টি অস্ত্র রয়েছে।

গত ১৯ এপ্রিল রাতে রাজধানীর হাতিরঝিল থানাধীন নয়াটোলা মোড়ল গলির ‘দি ঝিল ক্যাফে’র সামনে যুবদল নেতা মো. আরিফ সিকদারকে গুলি করা হয়। পরে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।  এ হত্যার সঙ্গে সুব্রত বাইনের সহযোগীরা জড়িত ছিল। এ হত্যা মামলায় সুব্রত বাইনের মেয়ে খাদিজা ইয়াসমিনকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করে ডিবি পুলিশ।

ডিবি পুলিশের একটি সূত্র বলছে, সুব্রত বাইন কুমিল্লার কারাগারে রয়েছেন। বাবার সঙ্গে দেখা করে সুব্রত বাইনের সহযোগী মেহেদী হাসান, মধু বাবুসহ বিভিন্নজনকে বার্তা পৌঁছে দিতেন খাদিজা।

পুলিশ জানায়, গত শুক্রবার মেহেদী হাসানকে গ্রেপ্তারের সময় উত্তর বাড্ডার ওই বাড়ি থেকে অস্ত্র, গুলি ছাড়াও পিস্তলের ৮টি ম্যাগাজিন, ৩২টি কার্তুজ, একটি ২২ উজি মেশিনগান রাইফেল, উজি রাইফেলের দুটি ম্যাগাজিন, তিনটি চায়নিজ কুড়াল, একটি টাইগার হান্টিং কমান্ডো চাকু, দুটি ওয়াকিটকি, একটি ওয়াকিটকি ব্যাটারি, তিনটি পিস্তলের সাইড কভার ও একটি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়েছে।

মেহেদী হাসান দীপুকে অস্ত্র আইনের মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। পুলিশের আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে গতকাল শনিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন এই আদেশ দেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক কামাল হোসেন গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, গতকাল বিকেলে দীপুকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাড্ডা থানার উপপরিদর্শক সুমন মিয়া তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাতদিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, আসামি দীপুসহ অজ্ঞাতনামা আসামিদের সহায়তায় দীর্ঘদিন ধরে গোপনে বাড্ডা-ভাটারা থানা এলাকাসহ মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে অস্ত্র ক্রয়-বিক্রয় চলছিল। দীপুর বিষয়ে তদন্ত চলছে। তাঁকে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে এলোমেলো তথ্য দিয়ে পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। মামলার মূল রহস্য উদঘাটনের জন্য এবং মামলার অজ্ঞাতনামা পলাতক আসামিদের নাম-ঠিকানা জানতে দীপুকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।

এর আগে গতকাল বাড্ডা থানার উপপরিদর্শক মো. হাসানুর রহমান অস্ত্র আইনে মেহেদী হাসান দীপুর নামে মামলা করেন।

বাংলাদেশ সময়: ১৮:৫৩:৪২   ১০৭ বার পঠিত  




রাজধানী’র আরও খবর


পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরায় বাংলাদেশিদের ভ্রমণ স্থগিতের দাবি, সরকারকে আইনি নোটিশ
সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্য গোপনে মিলবে না মার্কিন ভিসা
১৭ বছরের মধ্যে রেকর্ড বৃষ্টিতে ‌‘ডুবল ঢাকা’, দুর্ভোগে নগরবাসী
অপসারণে ৭ দিনের আলটিমেটাম ঢাকা আইনজীবী সমিতির নামে দশটি ভুয়া ফেইসবুক আইডি
আওয়ামী লীগ আমলে ক্রসফায়ারে নিহতদের তথ্য প্রকাশে লিগ্যাল নোটিশ
রাজধানীতে ‎ডাকাতির প্রস্তুতিকালে গ্রেপ্তার ৭
সাভারে এনসিপির সমাবেশে ককটেল বিস্ফোরণ, আহত ৩
১০০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে ব্যারিস্টার ফুয়াদকে লিগ্যাল নোটিশ
সাঈদীর মামলার সাক্ষী সুখরঞ্জন বালীকে অপহরণকারী পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেফতার
ড. ইউনূসের বিচার চাইলেন গ্রেপ্তার হওয়া সেই ৬১ আইনজীবী

Law News24.com News Archive

আর্কাইভ