
শিশু যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিনের সঙ্গে কোনো রকম যোগাযোগ রাখার জন্য অনুতাপ প্রকাশ করেছেন নরওয়ের ক্রাউন প্রিন্সেস মেটে-মারিট। ক্রাউন প্রিন্সেস মেটে-মারিটের এরই মধ্যে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন যে, এপেস্টিনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার ক্ষেত্রে তিনি ভুল বিচারবোধ ব্যবহার করেছিলেন। ক্রাউন প্রিন্সেসের এই স্বীকারোক্তির সঙ্গে একমত প্রকাশ করেছেন নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গার স্টোরে। যুক্তরাষ্ট্রের আইন মন্ত্রণালয় সম্প্রতি যে নতুন এপস্টিন সংক্রান্ত নথিপত্র প্রকাশ করেছে, তাতে দেখা যায়- ২০১১ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে এসব নথিতে ক্রাউন প্রিন্সেস মেটে-মারিটের নাম শত শতবার এসেছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।
নরওয়ের রাজপরিবারের জন্য এই নতুন বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এমন এক সময়ে, যখন তার ছেলের বিরুদ্ধে দায়ের করা ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতনসহ মোট ৩৮টি অভিযোগের বিচার শুরু হতে যাচ্ছে। অসলোতে এই বিচার চলবে টানা সাত সপ্তাহ। মেটে-মারিট একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে নরওয়ের ক্রাউন প্রিন্স হাকোনকে বিয়ে করেন। তখন তার ছেলে মারিয়ুস বর্গ হইবি’র বয়স ছিল মাত্র চার বছর। স্বামীর সিংহাসনে আরোহণের পর মেটে-মারিট ভবিষ্যতে নরওয়ের রানি হবেন। এপস্টিনের সঙ্গে তার ইমেইল যোগাযোগের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতে শুরু করলে, শনিবার এক বিবৃতিতে ক্রাউন প্রিন্সেস বলেন- আমি ভুল বিচারবোধ দেখিয়েছি এবং এপস্টিনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার জন্য আমি অনুতপ্ত। বিষয়টি লজ্জাজনক। তিনি আরও বলেন, জেফ্রি এপস্টিনের দ্বারা সংঘটিত নির্যাতনের শিকারদের প্রতি তিনি গভীর সহানুভূতি ও সংহতি প্রকাশ করছেন।
যদিও প্রধানমন্ত্রী স্টোরে ক্রাউন প্রিন্সেসের বক্তব্যে একমত হওয়া ছাড়া সরাসরি আর বেশি কিছু বলেননি, তবু নরওয়েতে এটি রাজপরিবারের প্রতি এক ধরনের পরোক্ষ সমালোচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। যা সাধারণত খুবই বিরল। স্টোরে আরও বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী থোরবিয়র্ন ইয়াগলান্ডও ভুল বিচারবোধ দেখিয়েছিলেন। কারণ, একসময় প্রকাশ পায় যে, ইয়াগলান্ড তার পরিবারসহ এপস্টিনের ব্যক্তিগত দ্বীপে ছুটি কাটানোর পরিকল্পনা করেন, যদিও পরে তিনি সেই পরিকল্পনা বাতিল করেন।
সর্বশেষ প্রকাশিত এপস্টিন নথিতে বলা হয়েছে, জানুয়ারি ২০১৩ সালে ক্রাউন প্রিন্সেস মেটে-মারিট চার দিন মায়ামিতে এপস্টিনের পাম বিচের বাড়িতে অবস্থান করেন। একটি ইমেইলে, যা ক্রাউন প্রিন্সেসের সরকারি ইমেইল অ্যাকাউন্ট থেকে পাঠানো, সেখানে এপস্টেইনের কাছে জানতে চাওয়া হয়- ‘একজন মা কি তার ছেলের ওয়ালপেপারের জন্য সার্ফবোর্ড বহনকারী নগ্ন নারীদের ছবি প্রস্তাব করতে পারেন?’
এ ধরনের উষ্ণ ও ঘনিষ্ঠ ভাষার ইমেইল বিনিময় নরওয়ের বিশ্লেষক ও গণমাধ্যমকে হতবাক করেছে। একটি বার্তা থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, ২০০৮ সালে এপস্টিনের প্রথম কারাদণ্ডের বিষয়েও তিনি অবগত ছিলেন।সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নরওয়ের রাজপরিবার একের পর এক বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ক্রাউন প্রিন্সের বোন প্রিন্সেস মার্থা লুইসের বিয়ে। তিনি একজন স্বঘোষিত মার্কিন ‘শামান’কে বিয়ে করেন। এখন মারিয়ুস বর্গ হইবি’র বিচার শুরুর প্রাক্কালে নরওয়েজিয়ানদের মধ্যে প্রশ্ন উঠছে- কেন তার মা এপস্টিনের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখার বিষাক্ত ও বিপজ্জনক চরিত্র বুঝতে ব্যর্থ হলেন? এ ক্ষেত্রে তার উপদেষ্টাদের ভূমিকা কী ছিল? ক্রাউন প্রিন্সেস মেটে-মারিট বর্তমানে পালমোনারি ফাইব্রোসিসে ভুগছেন। তার চিকিৎসকরা তাকে ফুসফুস প্রতিস্থাপনের অপেক্ষমাণ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তার ২৯ বছর বয়সী ছেলে মারিয়ুস বর্গ হইবি রাজপরিবারের সদস্য নন। তিনি তার বিরুদ্ধে আনা সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন।
বাংলাদেশ সময়: ১০:০৮:৩৪ ৩৭ বার পঠিত