
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে আটক করার আগেই বর্তমান অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ ও তার ভাই জর্জ রদ্রিগেজ ওয়াশিংটনকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছিলেন। এই আলোচনার সঙ্গে যুক্ত উচ্চপর্যায়ে চারটি সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বৃটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান।
সূত্রগুলো জানায়, মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হলে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত ছিলেন ডেলসি রদ্রিগেজ। তিনি গত ৫ জানুয়ারি মাদুরোর পরিবর্তে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন। তার ভাই জর্জ রদ্রিগেজ ভেনেজুয়েলার জাতীয় পরিষদের প্রধান। দুজনই মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের কর্মকর্তাদের গোপনে জানান, মাদুরোর বিদায় তারা স্বাগত জানাবেন।প্রতিবেদনে বলা হয়, তখনকার ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে মার্কিন কর্মকর্তাদের যোগাযোগ শুরু হয় গত বছর। নভেম্বরের শেষ দিকে ট্রাম্প ও মাদুরোর মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ ফোনালাপের পরও সেই যোগাযোগ অব্যাহত ছিল। ওই ফোনালাপে ট্রাম্প মাদুরোকে ক্ষমতা ছাড়ার দাবি জানালেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন।
ডিসেম্বরে আলোচনায় যুক্ত এক মার্কিন নাগরিক গার্ডিয়ানকে জানান, ডেলসি স্পষ্টভাবে বলেছিলেন- মাদুরোর চলে যাওয়া দরকার এবং পরবর্তী পরিস্থিতিতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।সূত্রগুলোর দাবি, প্রথমে সন্দিহান থাকলেও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মার্কো রুবিও শেষ পর্যন্ত মনে করেন, মাদুরো বিদায়ের পর বিশৃঙ্খলা এড়াতে ডেলসির আশ্বাসই সবচেয়ে কার্যকর পথ।
তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত ছিল- ডেলসি ও জর্জ রদ্রিগেজ মাদুরো চলে যাওয়ার পর সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিলেও তাকে উৎখাতে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করতে রাজি হননি। সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, এটি রদ্রিগেজ ভাইবোনের দ্বারা সংগঠিত কোনো অভ্যুত্থান ছিল না।মাদুরো আটক হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর ট্রাম্প নিজেও আলোচনার ইঙ্গিত দেন। নিউ ইয়র্ক পোস্টকে তিনি বলেন, আমরা ডেলসির সঙ্গে বহুবার কথা বলেছি। সে সবকিছু বোঝে। ভেনেজুয়েলা সরকার ও হোয়াইট হাউস এই বিষয়ে প্রশ্নের জবাব দেয়নি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গোপন যোগাযোগের পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসন ও মাদুরো সরকারের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনাও চলছিল। ট্রাম্পের শপথ গ্রহণের মাত্র ১০ দিনের মাথায় মাদুরো তার শীর্ষ উপদেষ্টা রিক গ্রেনেলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন মার্কিন বন্দিদের মুক্তি নিয়ে। এর কিছুদিন পরই বন্দিরা মুক্তি পায়।এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কৃত ভেনেজুয়েলানদের নিয়মিত ফেরত পাঠানো, এল সালভাদরে আটক ভেনেজুয়েলান নাগরিকদের অবস্থা এবং রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি- এমন নানা বিষয়ে ডেলসি ও জর্জ রদ্রিগেজের সঙ্গে মার্কিন কর্মকর্তাদের নিয়মিত আলোচনা চলছিল।ডেলসির সঙ্গে কাতারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কও আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে সূত্রগুলো জানায়। কাতারের শাসক পরিবারের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল, যা গোপন আলোচনার পথ সুগম করে। উল্লেখ্য, কাতার ট্রাম্পকে ৪০০ মিলিয়ন ডলারের একটি বিলাসবহুল বিমান উপহার দিয়েছিল, যা যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে নজিরবিহীন।
বাংলাদেশ সময়: ২৩:৪৬:৫০ ৩৮ বার পঠিত