মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রামে ছিনতাই হওয়া ২৯০ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৬

প্রথম পাতা » সারাদেশ » চট্টগ্রামে ছিনতাই হওয়া ২৯০ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৬
সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬



চট্টগ্রামে ছিনতাই হওয়া ২৯০ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৬

চট্টগ্রামে আলোচিত ৩৫০ ভরি স্বর্ণ ছিনতাই মামলায় লুণ্ঠিত ২৯০ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারীসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের বাজারমূল্য আনুমানিক ৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে পুলিশ। শুক্রবার সংবাদ সম্মেলন করে এ সব তথ্য জানায় সিএমপি। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো-ছিনতাইয়ের মূল হোতা সুমন চন্দ্র দাস (৪২), মো. মাসুদ রানা প্রকাশ বাইক বাবু (৩০), রফিকুল ইসলাম প্রকাশ ইমন (২২), রবি কুমার দাস (৪০), সুমনের স্ত্রী পান্না রানী দাস (৩৮) এবং গোপন তথ্যদাতা বিবেক বণিক (৪২)। পুলিশ জানায়, গত ৪ঠা জানুয়ারি ভোর ৫টার দিকে সবুজ দেবনাথ নামে এক যুবক তার সঙ্গে দুইজন নিয়ে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় কোতোয়ালি থানার সাবএরিয়া এলাকা থেকে অক্সিজেনের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। এ সময় আতুরের ডিপো এলাকায় পৌঁছালে দু’টি মোটরসাইকেলে থাকা চারজন ছিনতাইকারী তাদের পথরোধ করে এবং তাদের কাছ থেকে ৩৫টি স্বর্ণের বার, তিনটি মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। এরপর পাঁচলাইশ মডেল থানায় মামলা দায়ের হয়। পুলিশের গোপন সূত্র ও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে ধারাবাহিক অনুসন্ধানে গত বৃহস্পতিবার (৮ই জানুয়ারি) বিকালে গাজীপুরের কাশিমপুরে অভিযান চালিয়ে মূল অভিযুক্ত সুমন, মো. মাসুদ রানা এবং রফিকুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের সময় ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত একটি সুজুকি জিক্সার মোটরসাইকেলও উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন স্বীকার করে, তার নেতৃত্বেই পূর্ব-পরিকল্পিতভাবে ছিনতাই সংঘটিত হয়েছিল। তিনি জানান, লুণ্ঠিত স্বর্ণের বারগুলো প্রথমে তার স্ত্রী পান্না রানী দাস (৩৮) এর হেফাজতে রাখা হয়েছিল। পরে এগুলো তার চাচাতো ভাই রবি কুমার দাস (৪০)’র কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরবর্তীতে গ্রেপ্তারকৃত অন্যান্য আসামিদের কাছ থেকে জানা যায়, রবি স্বর্ণগুলো তার বোন সাক্ষী প্রতিমা দাশের কাছে সরল বিশ্বাসে রেখে যান। মামলার এজাহার অনুযায়ী, এক ব্যবসায়ীর নির্দেশে দুই কারিগর ৩৫টি স্বর্ণের বার নিয়ে সিএনজি অটোরিকশায় করে ঢাকার পথে রওনা হন। হামজারবাগে পৌঁছালে মোটরসাইকেলে আসা চারজন তাদের গতিরোধ করে স্বর্ণ ও দু’টি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। ভুক্তভোগীরা এজাহারে ছিনতাইকারীদের একজনের নাম ‘সুমন’ বলে উল্লেখ করেন। ধারণা করা হচ্ছে, ঘটনাটি পূর্ব-পরিকল্পিত ছিল এবং ছিনতাইকারীরা আগেই কারিগরদের গতিবিধি অনুসরণ করছিল। সিএমপি’র গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি-উত্তর) হাবিবুর রহমান প্রামাণিক বলেন, আসামিদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে শুক্রবার সকালে ঢাকার মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার এলাকায় একটি বাসা থেকে একটি কাগজের বাক্স উদ্ধার করা হয়। পরে বাক্সের ভেতর থেকে ২৯টি সোনার বার পাওয়া যায়। উদ্ধার হওয়া সোনার ওজন ২৯০ ভরি। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

বাংলাদেশ সময়: ৫:৩৭:০৭   ৪৫ বার পঠিত