ভালো চাকরি ও সচ্ছল জীবনের আশায় কম্বোডিয়ায় গিয়ে মানব পাচারের শিকার হয়েছেন দুই বাংলাদেশি তরুণ। তাঁদের কাছ থেকে জনপ্রতি প্রায় ছয় লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর দেশটিতে পৌঁছানো মাত্রই পাসপোর্ট কেড়ে নেওয়া হয়। এরপর তাঁদের পাঁচ হাজার মার্কিন ডলারে একটি স্ক্যাম সেন্টারে ‘বিক্রি’ করে দেওয়া হয়। সেখানে তাঁদের অনলাইনে প্রতারণামূলক কাজে বাধ্য করা হতো এবং কাজ করতে অস্বীকৃতি জানালে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো।
এই ঘটনায় মানব পাচার চক্রের দুই সদস্য মো. শাওন মোল্লা (২৩) ও মো. সাকিব সরকার (২৬)-কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। মঙ্গলবার রাজধানীর পল্টন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। সিআইডি জানায়, স্ক্যাম সেন্টারে বন্দি থাকা অবস্থায় ওই দুই তরুণকে ছাড়িয়ে নিতে তাঁদের পরিবারের কাছে আরও পাঁচ হাজার মার্কিন ডলার মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরিবারের সদস্যরা সেই টাকা পরিশোধ করলেও পাচারকারীরা তাঁদের জিম্মি করে রাখে এবং দেশে ফেরার বিমানের টিকিটের জন্যও পুনরায় টাকা আদায় করে।
ভুক্তভোগী দুই তরুণ প্রায় দুই মাস কম্বোডিয়ার একটি স্থানীয় হোটেলে বন্দিদশায় থাকার পর ব্র্যাক মাইগ্রেশন সেন্টারের সহায়তায় গত ৩ সেপ্টেম্বর দেশে ফেরেন। এ ঘটনায় ২৬ অক্টোবর পল্টন থানায় মামলা দায়ের করা হয়। বর্তমানে মামলার তদন্ত চলছে।
বিএমইটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ১২ হাজার ২৬৩ জন বাংলাদেশি কম্বোডিয়ায় যাওয়ার ছাড়পত্র নিয়েছেন। বর্তমানে দেশটি বাংলাদেশের বৈদেশিক শ্রমবাজারের তালিকায় অষ্টম অবস্থানে রয়েছে। তবে কলসেন্টারে চাকরির নামে নিয়ে গিয়ে স্ক্যাম সেন্টারে কাজে বাধ্য করার অভিযোগে আন্তর্জাতিক চাপে কম্বোডিয়ার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সম্প্রতি অনেকগুলো কেন্দ্র বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে গত জুন মাস থেকে অনেক বাংলাদেশি কর্মী দেশে ফিরে আসছেন।
বাংলাদেশ সময়: ১৪:০৮:২৮ ১৫ বার পঠিত #অপরাধ #কম্বোডিয়া #গ্রেপ্তার #প্রতারণা #মানব পাচার #সিআইডি #স্ক্যাম সেন্টার