উন্নত চাকরির আশায় রাশিয়া গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছেন অনেক বাংলাদেশি। দালালদের খপ্পরে পড়ে নির্মাণকাজে যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও তাঁদের বাধ্য করা হচ্ছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নিতে। গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে অন্তত ৫৪ জন বাংলাদেশি যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত হয়েছেন।
ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জাবালে নূর ইন্টারন্যাশনাল, আর এস ইন্টারন্যাশনাল ও টিএস ওভারসিজসহ বেশ কিছু রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে উচ্চ বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে কর্মীদের রাশিয়া পাঠানো হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর তাঁদের পাসপোর্ট ও কাগজপত্র নিয়ে সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয়। ২১ দিনের সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণ শেষে তাঁদের যুদ্ধের সম্মুখসারিতে পাঠানো হয়।
আহত হয়ে দেশে ফেরা আদনান হোসেন ও রাজন হোসেন জানান, যুদ্ধক্ষেত্রে বাংলাদেশিদের টোপ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ড্রোন হামলায় বা সরাসরি সংঘর্ষে মারা গেলে তাঁদের মরদেহ উদ্ধার করা হয় না। রাশিয়া কর্তৃপক্ষও মৃত্যুর তথ্য গোপন রাখে এবং মরদেহ হস্তান্তর করে না। ফলে পরিবারগুলো নিখোঁজ স্বজনদের কোনো ক্ষতিপূরণ বা মরদেহ পায় না।
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ দূতাবাস জানিয়েছে, এ ধরনের পাচার রোধে কঠোর নজরদারি ও যাচাই-বাছাই শুরু হয়েছে। অভিযুক্ত এজেন্সিগুলোর লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে এবং মানব পাচারের অভিযোগে বেশ কয়েকটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে যুদ্ধক্ষেত্রে আটকে থাকা কর্মীদের ফিরিয়ে আনা এবং নিহতদের উত্তরাধিকার নিশ্চিত করা অত্যন্ত জটিল প্রক্রিয়া বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বাংলাদেশ সময়: ৮:৪৬:০৭ ১৯ বার পঠিত #নিখোঁজ #প্রতারণা #প্রবাসী #বাংলাদেশি কর্মী #মানব পাচার #যুদ্ধ #রাশিয়া