বাগেরহাটের মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চলতি বছর ৫৩২ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন, যা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. শাহীন জানান, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা দিয়ে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা পুরোপুরি বোঝা সম্ভব নয়, পরিস্থিতি এর চেয়েও মারাত্মক।
উপকূলের যে চিত্র আমরা পাচ্ছি, তা হাসপাতালের অবস্থান ধরে সংগ্রহ করা। রোগীর বাড়ি বা সংক্রমণের স্থান থেকে সব সময় তা বোঝা যায় না। বাস্তবে উপকূলে রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত দেশের মোট ডেঙ্গু রোগীর ৩৯ দশমিক ৬ শতাংশই উপকূলীয় ১৯ জেলার। অথচ এই অঞ্চলকে ঘিরে সরকারের কোনো সুনির্দিষ্ট বা বিশেষ পরিকল্পনা নেই। জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, উপকূল কয়েক বছর ধরেই সংক্রমণের বড় এলাকায় পরিণত হলেও এ অঞ্চল ঘিরে সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা নেই। সরকারের সামগ্রিক উদাসীনতার নীরব শিকার হচ্ছে উপকূলের মানুষ। কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবীরুল বাশারের মতে, উপকূলীয় এলাকায় এডিস মশার জন্য সহায়ক পরিবেশ বেশি থাকায় সেখানে সংক্রমণ ছড়িয়েছে। এছাড়া সুপেয় পানির সংকট, ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাব এবং স্থানীয় সরকারে জনপ্রতিনিধি না থাকায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক হালিমুর রশীদ স্বীকার করেছেন যে, ডেঙ্গু রোধে সারা দেশে কাজ চললেও উপকূল ঘিরে বিশেষ কোনো কর্মসূচি নেই।
বাংলাদেশ সময়: ১০:৩০:০৪ ২২ বার পঠিত #উপকূলীয় অঞ্চল #জনস্বাস্থ্য #ডেঙ্গু #মশা #স্বাস্থ্য অধিদপ্তর #স্বাস্থ্যসেবা