
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির আলিফের লাশের ময়নাতদন্তে শরীরে ছয়টি গুলির আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক শ্রদ্ধ্যানন্দ নাথ জানান, পাঁচটি গুলি শরীর ভেদ করে বেরিয়ে গেলেও একটি গুলি পিঠের ভেতরে আটকে ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে সামনের দিক থেকে পিস্তল দিয়ে গুলি করা হয়েছিল।
ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক জানান, লুৎফুজ্জামানের বুকে তিনটি গুলির আঘাত রয়েছে। এর মধ্যে দুটি গুলি শরীর ভেদ করে বেরিয়ে গেছে। অন্যটি পিঠের ভেতরে আটকে ছিল। এ ছাড়া কপালের ডান পাশ দিয়ে ঢুকে একটি গুলি মাথার পেছন দিক দিয়ে বেরিয়ে যায়। বাকি দুটি গুলির একটি মাথার ওপরের অংশের চামড়া এবং অন্যটি ডান কাঁধের পাশের চামড়া ভেদ করে বেরিয়ে গেছে।
এই ঘটনায় শুক্রবার রাতে আলিফের স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা বাদী হয়ে দুর্গাপুর থানায় সাত থেকে আটজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ খান জানান, আসামিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানিয়েছেন, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে পিস্তলের গুলির খোসা ও একটি অবিস্ফোরিত গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। লুৎফুজ্জামান বেসরকারি আইপি টেলিভিশন চ্যানেল রূপসী বাংলার নেত্রকোনা প্রতিনিধি ছিলেন এবং ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন। উল্লেখ্য, গত বছরের ১০ নভেম্বর দুর্গাপুরে দুর্বৃত্তরা তাকে কুপিয়ে জখম করেছিল, যে ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অভিযুক্তরা বর্তমানে জামিনে রয়েছে।
বাংলাদেশ সময়: ১১:৩০:৪৭ ১১ বার পঠিত #অপরাধ #দুর্গাপুর #নেত্রকোনা #সাংবাদিক হত্যা #হত্যা মামলা