একটি যৌথ স্বাধীন মূল্যায়ন দল দেশে হামের প্রাদুর্ভাবের জন্য শিশুদের টিকাদানে ঘাটতি, হাম-রুবেলার টিকার মজুত ফুরিয়ে যাওয়া এবং বিশেষ টিকাদান কর্মসূচিতে বিলম্বকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। আন্তর্জাতিক ও দেশি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত এই দলটির মতে, প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় বর্তমান সরকারের সাড়াও ছিল অপর্যাপ্ত। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে হুপিং কাশি, ডিপথেরিয়া এবং পোলিও-র মতো রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে।
ক্যাটরিনা ক্রেটসিঙ্গার বলেন, ২০২৬ সালে প্রাদুর্ভাবের আগে শিশুদের মধ্যে ইমুনাইজেশন গ্যাপ তৈরি হয়েছিল। নিয়মিত টিকা কার্যক্রমে প্রতিবছর কমবেশি ২০ শতাংশ শিশু টিকার বাইরে থাকে। ২০০০ থেকে ২০২৫ সাল—এই পাঁচ বছরে ৮ লাখ ৪৯ হাজার ৬১৯ শিশু হামের টিকা পায়নি। ২০২৫ সালে হাম-রুবেলার টিকার মজুত ফুরিয়ে যায়।
মূল্যায়নে উঠে এসেছে যে, দেশের টিকাদান কর্মসূচিতে স্থানীয় পরিকল্পনার অভাব, জনবলের ব্যাপক শূন্যতা এবং শহর এলাকায় নজরদারির দুর্বলতা বিদ্যমান। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ১৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন টিকার মান ও কোল্ড চেইন ব্যবস্থা যাচাইয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। মূল্যায়ন দল টিকাদান কর্মসূচির আধুনিকায়ন, শূন্য পদ পূরণ এবং স্কুল পর্যায়ে টিকা নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছে।
এতে বলা হয়, এই দুর্বলতার কারণে দেশের ১৫ থেকে ২০ শতাংশ শিশু পদ্ধতিগতভাবে টিকা থেকে বাদ পড়ছে। একজন টিকাকর্মীকে টিকা দেওয়ার পাশাপাশি রেকর্ড সংরক্ষণ ও কাউন্সেলিংয়েরও কাজ করতে হয়। টিকা কর্মসূচিতে পুষ্টিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। টিকা দেওয়ার সময় কোনো সমস্যা দেখা দিলে বা কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে তা মোকাবিলার প্রস্তুতি তেমন থাকে না।
টিকার ক্ষেত্রে যারা সহায়তা দেয় তাদের কাজের সমন্বয়, শহরের এলাকায় বিশেষ নজর দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। স্কুলে ঢোকার সময় শিশুর সব টিকা নেওয়া আছে কি না, তা জানার ব্যবস্থা চালু করারও সুপারিশ করেছে এই স্বাধীন মূল্যায়ন দল।
বাংলাদেশ সময়: ১১:৩০:৫০ ১৩ বার পঠিত #ইপিআই #জনস্বাস্থ্য #টিকাদান #স্বাস্থ্য অধিদপ্তর #স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় #হাম #হামের প্রাদুর্ভাব