![]()
কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে
নতুন অর্থবছরের শুরু থেকেই সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হওয়ার ঘোষণা থাকলেও এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ হয়নি। ফলে কবে থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকর হবে, কোন গ্রেডে কত বেতন বাড়বে এবং কীভাবে তা বাস্তবায়ন করা হবে, এসব নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
নতুন অর্থবছরের বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী ১ জুলাই থেকে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ঘোষণা দিলেও সরকার এখনো চূড়ান্ত বেতন কাঠামো প্রকাশ করেনি। ফলে বেতন-ভাতার হার এবং গ্রেডভিত্তিক পরিবর্তনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ হুবহু বাস্তবায়ন করা হবে, নাকি বর্তমান সরকার সংশোধিত কাঠামো অনুমোদন করবে, সেটিও এখনো স্পষ্ট নয়।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি ইতোমধ্যে নতুন বেতন কাঠামোর একটি খসড়া রূপরেখা প্রস্তুত করেছে। বর্তমানে বেতন বৃদ্ধির হার, ধাপভিত্তিক বাস্তবায়ন, ভাতা বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতির প্রভাব মোকাবিলার বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করে চূড়ান্ত গেজেট তৈরির কাজ চলছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নতুন অর্থবছরের শুরু থেকেই পে-স্কেল কার্যকর করার পরিকল্পনা থাকলেও গেজেট প্রকাশের আগে কোনো বিষয়ই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। প্রশাসনিক আদেশ, আইনি প্রক্রিয়া এবং গেজেট প্রকাশ সম্পন্ন হওয়ার পরই নতুন কাঠামো কার্যকর হবে।
তিনি আরও জানান, বাস্তবায়নে কিছুটা সময় লাগলেও কার্যকর হওয়ার তারিখ থেকে বকেয়া বেতন-ভাতাও পরিশোধের বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন বেতন কাঠামো ‘যথাসময়ে’ বাস্তবায়ন করা হবে।
বাংলাদেশে সর্বশেষ জাতীয় বেতন স্কেল ঘোষণা করা হয়েছিল ২০১৫ সালে। এরপর প্রতি বছর মূল বেতনের ৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট দেওয়া হলেও নতুন পে-স্কেল আর ঘোষণা হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই নতুন বেতন কাঠামোর দাবিতে অপেক্ষা করছেন সরকারি চাকরিজীবীরা।
২০২৫ সালে গঠিত জাতীয় বেতন কমিশন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল। কমিশনের প্রস্তাবে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করা হয়। পাশাপাশি বৈশাখী ভাতা ২০ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশে উন্নীত করা এবং নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের যাতায়াত ভাতায়ও পরিবর্তনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।
তবে ওই সুপারিশ বাস্তবায়নে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে বলে কমিশনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, যা জাতীয় বাজেটের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ সময়: ১:১৮:৩৩ ১২ বার পঠিত