শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬

নৌ অবরোধ প্রত্যাহার ও হরমুজ প্রণালি উন্মুক্তের ঘোষণা ট্রাম্পের

প্রথম পাতা » আন্তর্জাতিক » নৌ অবরোধ প্রত্যাহার ও হরমুজ প্রণালি উন্মুক্তের ঘোষণা ট্রাম্পের
শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬



নৌ অবরোধ প্রত্যাহার ও হরমুজ প্রণালি উন্মুক্তের ঘোষণা ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান তীব্র উত্তেজনার পারদ কিছুটা নামিয়ে আনতে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ অবরোধ তুলে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি উভয় দিক থেকে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করা হবে বলেও জানান তিনি।

শুক্রবার (২৯ মে) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির রূপরেখা হিসেবে বেশ কয়েকটি কঠোর শর্তের কথা প্রকাশ করেন ট্রাম্প।

ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া ট্রাম্পের শর্ত অনুযায়ী, সম্ভাব্য এই শান্তিচুক্তি কার্যকর করতে হলে ইরানকে কখনই পরমাণু অস্ত্র তৈরি না করার সুনির্দিষ্ট ও স্থায়ী অঙ্গীকার করতে হবে। এর পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে কোনো ধরনের টোল বা অতিরিক্ত মাশুল ছাড়াই উভয় দিক থেকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য তরীর অবাধ ও নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে হবে।

ট্রাম্প তার পোস্টে আরও উল্লেখ করেন, এই নৌপথে যদি কোনো সামুদ্রিক মাইন থেকে থাকে, তবে তা দ্রুততম সময়ের মধ্যে অপসারণ করতে হবে। মার্কিন নৌবাহিনী ইতোমধ্যে সেখানে অভিযান চালিয়ে অনেক মাইন বিস্ফোরণের মাধ্যমে সফলভাবে ধ্বংস করেছে বলেও তিনি দাবি করেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার বার্তায় আশ্বাস দিয়ে বলেন, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আমেরিকার যে কড়া নৌ অবরোধ রয়েছে, তা খুব শিগগিরই পুরোপুরি প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে। এর ফলে বর্তমানে জলসীমায় আটকে থাকা পণ্যবাহী ও বাণিজ্যিক জাহাজগুলো কোনো বাধা ছাড়াই যার যার নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যাওয়ার সুযোগ পাবে।

পাশাপাশি ট্রাম্প একটি চাঞ্চল্যকর দাবি করে বলেন, প্রায় ১১ মাস আগে মার্কিন অত্যাধুনিক বি-২ বোমারু বিমানের নিখুঁত হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের ভূগর্ভস্থ খনি থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উদ্ধার করা হবে। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় সেই ইউরেনিয়াম সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হবে বলেও তিনি জানান।

তবে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই দীর্ঘ পোস্ট ও শর্তের তালিকা প্রকাশের পরপরই তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে তেহরান। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সম্ভাব্য দ্বিপাক্ষিক চুক্তি নিয়ে ট্রাম্পের দেওয়া এই বক্তব্য মূলত ‘সত্য ও মিথ্যার এক অদ্ভুত মিশ্রণ’ এবং ট্রাম্পের এই একপেশে দাবি ইরান সম্পূর্ণভাবে নাকচ করে দিয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইরানের বেশ কিছু উচ্চপদস্থ সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদ সংস্থাটি দাবি করেছে, ট্রাম্প খসড়া চুক্তির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু ধারা সম্পূর্ণ বিকৃতভাবে বিশ্বের সামনে উপস্থাপন করেছেন, যাতে তিনি আন্তর্জাতিক মহলে নিজের একটি ‘ভুয়া বিজয়’ বা ক্রেডিট জাহির করতে পারেন।

ইরানি কূটনৈতিক সূত্রগুলোর স্পষ্ট দাবি, ইরানের নিজস্ব সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উদ্ধার ও ধ্বংস করার বিষয়ে ট্রাম্প যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং বাস্তবতাবিবর্জিত। এ ছাড়া হরমুজ প্রণালিতে কোনো ধরনের টোল ছাড়া আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের যে শর্তের কথা ট্রাম্প বলছেন, তেমন কোনো বিষয়ও মূল খসড়া চুক্তির কোথাও উল্লেখ নেই।

তেহরানের মূল অভিযোগ হলো, ট্রাম্প অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে তার বক্তব্যে মার্কিন প্রশাসনের কাছে অন্যায়ভাবে আটকে থাকা ইরানের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ সম্পদ দ্রুত মুক্ত করে দেওয়া এবং লেবাননে একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সম্পূর্ণ এড়িয়ে গেছেন।

বাংলাদেশ সময়: ২৩:৩০:১৯   ১২ বার পঠিত