শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

ঢাকা বারের নির্বাচন বিএনপি-জামায়াতের পৃথক প্যানেল, মনোনয়ন ফরম না দেয়ার অভিযোগ ২০ স্বতন্ত্র প্রার্থীর

প্রথম পাতা » আইনজীবী সমিতি নির্বাচন » ঢাকা বারের নির্বাচন বিএনপি-জামায়াতের পৃথক প্যানেল, মনোনয়ন ফরম না দেয়ার অভিযোগ ২০ স্বতন্ত্র প্রার্থীর
শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬



বিএনপি-জামায়াতের পৃথক প্যানেল, মনোনয়ন ফরম না দেয়ার অভিযোগ ২০ স্বতন্ত্র প্রার্থীর

ঢাকা আইনজীবী সমিতির (ঢাকা বার) আসন্ন ২০২৬-২৭ সেশনের নির্বাচনে দীর্ঘদিনের সমীকরণ পাল্টে যাচ্ছে। আগামী ২৯ ও ৩০ এপ্রিল অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনে এবার জোটবদ্ধ নয়, বরং পৃথক প্যানেল নিয়ে মাঠে নামছে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত আইনজীবীরা। রাজনৈতিক অঙ্গনের এই বিচ্ছেদ নিয়ে এখন আদালত পাড়ায় বইছে আলোচনার ঝড়। তবে দলীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় আওয়ামী লীগপন্থি আইনজীবীরা এবারের নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন না। শুধু তাই নয়, আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এমন প্রায় ২০ জনের মতো প্রার্থী নির্বাচন কমিশনে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করার আবেদন করেও তাদেরকে ফরম দেয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তারা। মনোনয়ন ফরম না পেয়ে এডভোকেট মৌসুমী বেগম ঢাকাইয়া অনশনও করেন। তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য নন বলে আবেদনে উল্লেখ করেন তিনি। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট আলহাজ্ব মো. বোরহান উদ্দিন।

তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, আমাদের কাছে যারা এসেছিলেন, তাদের সবাইকে মনোনয়ন ফরম দিয়েছি। যারা বলছেন দেয়া হয়নি, তারা সঠিক বলেননি। সময়সূচি অনুযায়ী তাদেরকে নির্বাচন কমিশনে আসতে বলেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বরাবরই বিএনপি সমর্থিত ‘নীল প্যানেলের’ ছায়াতলে জামায়াতপন্থি আইনজীবীরা নির্বাচন করে এলেও এবার তারা নিজস্ব ব্যানারে ‘বাংলাদেশ ল’ ইয়ার্স কাউন্সিল’ থেকে পূর্ণাঙ্গ প্যানেল দিয়েছে। অন্যদিকে, বিএনপিও এককভাবে ‘জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য’ প্যানেল দিয়েছে। আইনজীবীদের মতে, এই পৃথক অবস্থানের ফলে ভোটের লড়াইয়ে নতুন মাত্রা যোগ হবে। সাধারণ ভোটারদের মন জয়ে প্রার্থীরা এখন আদালতপাড়ায় লিফলেট বিতরণ ও কুশল বিনিময়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ১২ই এপ্রিল প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর নির্বাচনী প্রচার আরও জমে উঠবে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

নির্বাচন পরিচালনার জন্য অ্যাডভোকেট মো. বোরহান উদ্দিনকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এখন দেখার বিষয়, এই ‘বিচ্ছেদ’ শেষ পর্যন্ত কার পালে হাওয়া দেয় আর কার ভোটব্যাংকে ধস নামায়।

গত ৭ই এপ্রিল জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মনোনীত পূর্ণাঙ্গ প্যানেল ঘোষণা করা হয়েছে। প্যানেলে সভাপতি পদে মনোনয়ন পেয়েছেন অ্যাডভোকেট মো. আনোয়ার জাহিদ ভূইয়া এবং সাধারণ সম্পাদক পদে রয়েছেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আবুল কালাম খান। ঘোষিত প্যানেল অনুযায়ী সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে রয়েছেন মো. রেজাউল করিম চৌধুরী এবং সহ-সভাপতি পদে মো. আবুল কালাম আজাদ। কোষাধ্যক্ষ পদে মনোনীত হয়েছেন মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান আনিস।

এছাড়া সিনিয়র সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে মো. ইলতুৎমিশ সওদার এ্যানি এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে মো. মেহেদী হাসান জুয়েলকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। লাইব্রেরি সম্পাদক হিসেবে খন্দকার মাকসুদুল হাসান (সবুজ) এবং সাংস্কৃতিক সম্পাদক হিসেবে মারজিয়া হিরা রয়েছেন। দপ্তর সম্পাদক পদে মো. আবজাল হোসাইন মৃধা, ক্রীড়া সম্পাদক পদে মো. সোহেল খান, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক পদে আ. স.ম ফিরোজ এবং তথ্য ও যোগাযোগ সম্পাদক পদে সফিকুল ইসলাম (সফিক) মনোনীত হয়েছেন।

কার্যকরী সদস্য পদে ১০ জনকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। তারা হলেন-এ.এইচ.এম রেজওয়ানুল সাঈদ (রোমিও), ফারজানা ইয়াসমিন, মাহমদুল করিম সজল, নজরুল ইসলাম (মামুন), মুজাহিদুল ইসলাম (সায়েম), সৈয়দ সরোয়ার আলম (নিশান), মো. সানাউল, মামুন মিয়া, মো. নিজাম উদ্দিন এবং মো. আদনান রহমান। এ বিষয়ে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ঢাকা বার ইউনিটের সদস্য সচিব মো. নিহার হোসেন ফারুক জানান, আইনজীবীদের অধিকার রক্ষা ও বার সমিতির উন্নয়নে এই প্যানেল কাজ করবে।

স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিএনপিপন্থী আইনজীবীর আবেদন: গত ৮ই এপ্রিল বিএনপিপন্থী আইনজীবী সভাপতি পদে প্রার্থী হতে চেয়ে নমিনেশন ফরম না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মো. হোসেন আলী খান হাসান। এ বিষয়ে তিনি সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবর এক লিখিত আবেদনে জানান, ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী তিনি নমিনেশন ফরম সংগ্রহের জন্য নির্বাচন কমিশন ও সমিতির কার্যালয়ে যোগাযোগ করেন। তবে সংশ্লিষ্ট অফিস থেকে তাকে জানানো হয় যে, কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কোনো নমিনেশন ফরম বিতরণ করা হবে না। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, আসন্ন নির্বাচনে সভাপতি প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণের জন্য তিনি আগ্রহী এবং নিয়ম অনুযায়ী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে চান। জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সূত্র জানায়, তিনি তার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এনেছেন। দলীয় প্রার্থীর পক্ষেই কাজ করবেন তিনি।

এই প্রথম ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে জামায়াতপন্থি আইনজীবীদের সংগঠন ইসলামী লইয়ার্স কাউন্সিল আইনজীবী ঐক্য পরিষদ নামে পৃথক প্যানেল দিয়েছে। নির্বাচনী কার্যক্রমে তাদের নতুন করে গতি সঞ্চার হয়েছে। গতকাল তাদের মনোনীত প্রার্থীগণ মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। মনোনয়ন দাখিলকারী প্রার্থীদের মধ্যে সভাপতি পদে রয়েছেন এস. এম. কামাল উদ্দিন। সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে মো. শহীদুল ইসলাম এবং সহ-সভাপতি পদে লুৎফর রহমান আজাদ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

সাধারণ সম্পাদক পদে মনোনয়ন দাখিল করেছেন মো. আবু বকর সিদ্দিক। ট্রেজারার পদে রয়েছেন মো. আজমত হোসাইন। সিনিয়র সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে মো. শাহীন আক্তার এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে মো. মেহেদী হাসান ভূইয়া মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। এছাড়া লাইব্রেরী সম্পাদক পদে মো. শাহাদাত হোসাইন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে বিলকিস আক্তার, অফিস সম্পাদক পদে আব্দুর রাজ্জাক মন্ডল এবং ক্রীড়া সম্পাদক পদে বাবুল আক্তার বাবু মনোনয়ন দাখিল করেন। সমাজকল্যাণ সম্পাদক পদে মোহাম্মাদ শাহজাহান মোল্লা এবং তথ্য ও যোগাযোগ সম্পাদক পদে মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ প্রার্থী হয়েছেন।

কার্যকরী সদস্য পদে মনোনয়ন দাখিলকারী প্রার্থীরা হলেনÑ মো. ইউনুস, জহিরুল ইসলাম, কাউসার আহমেদ, মো. কাইয়ুম হোসেন (নয়ন), বেলাল হোসাইন, মো. ওমর ফারুক, মোশাররফ হোসাইন, মোঃ শাহ আলম, দিলরুবা আক্তার (সুবর্ণা) ও মো. মাহসীন (রেজা)। মনোনয়ন দাখিলের মাধ্যমে নির্বাচনকে ঘিরে আইনজীবীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

এছাড়া, দলীয় কার্যক্রমে নিষিদ্ধ থাকায় আওয়ামী লীগপন্থি আইনজীবীরা এবারের নিতে অংশ নিতে পারছে না। আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এমন প্রায় ২০ জনের মতো প্রার্থী মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করার আবেদন করলেও নির্বাচন কমিশন তাদের ফরম দেয়নি বলে তারা অভিযোগ করেছেন। যাদেরকে মনোনয়ন ফরম দেয়া হয়নি, তারা হলেন- সাধারণ সম্পাদক পদে এডভোকেট তাহমিনা তাহেরীন মুমু, কোষাধ্যক্ষ পদে শাহনাজ পরভীন সাইন ও এডভোকেট মো. খায়ের ইদ্দিন শিকদার, সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে এডভোকেট মো. ইসতিয়াক আহমেদ ও এডভোকেট মোহাম্মদ লিটন মিয়া, সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে নাছিমা বেগম, লাইব্রেরী সম্পাদক পদে এডভোকেট আমিনুল ইসলাম ও সদস্য পদে এডভোকেট মৌসুমী বেগম ঢাকাইয়া প্রমুখ।

এদের একজন সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হতে মনোনয়ন ফরম চেয়ে আবেদন করেছিলেন এডভোকেট তাহমিনা তাহেরীন মুমু। তিনি সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী এবং দীর্ঘদিন ধরে আইন পেশার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের জন্য সমিতির কার্যালয়ে যোগাযোগ করলে তাকে জানানো হয় যে নির্বাচন কমিশনের অনুমতি ছাড়া ফরম প্রদান সম্ভব নয়। এ প্রেক্ষিতে তিনি নির্বাচন কমিশনের কাছে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহের অনুমতি প্রার্থনা করেন। আবেদনে তিনি নিজেকে সমিতির সদস্য নম্বর-৭২৫৩ হিসেবে পরিচয় দেন এবং আসন্ন নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশ সময়: ১:২২:৪৪   ৭ বার পঠিত