বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬

ইয়াং জাজেস ফর জুডিসিয়াল রিফর্মের বিবৃতি সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ পাস চান বিচারকরা

প্রথম পাতা » সুপ্রিমকোর্ট » ইয়াং জাজেস ফর জুডিসিয়াল রিফর্মের বিবৃতি সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ পাস চান বিচারকরা
বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬



সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ পাস চান বিচারকরা

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ জাতীয় সংসদে পাস করার দাবি জানিয়েছেন বিচারকরা। একই সঙ্গে জুলাই জাতীয় সনদের ঐকমত্য অনুযায়ী বিচার বিভাগের পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধনেরও অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।

মঙ্গলবার বিচারকদের সংগঠন ‘ইয়াং জাজেস ফর জুডিসিয়াল রিফর্ম’ এক বিবৃতিতে এ দাবি জানিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ইয়াং জাজেস ফর জুডিসিয়াল রিফর্ম’ সরকারের নিকট সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ হতে ৩০ দিনের মধ্যে ‘সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫’ আইন হিসেবে পাশ করার জোর দাবি ব্যক্ত করছে। একইসাথে রাজনৈতিক দলসমূহের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রদত্ত অঙ্গীকার এবং জুলাই জাতীয় সনদের ঐকমত্য অনুযায়ী বিচার বিভাগের পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধনেরও অনুরোধ জানাচ্ছে।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা জনগণের সাংবিধানিক অধিকার এবং আইনের শাসনের মূল ভিত্তি। জনগণের রায়ে দেশ পরিচালনার এই সুযোগে সরকার বিচার বিভাগের প্রকৃত স্বাধীনতা নিশ্চিতকল্পে জারিকৃত ‘সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫’ সংসদে পাস করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে — এটাই আমাদের দৃঢ় প্রত্যাশা।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিদায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গত ৩০ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে ‘সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করে, যা মহামান্য আপিল বিভাগের ঐতিহাসিক মাসদার হোসেন মামলার রায়ের আলোকে এবং সংবিধানের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রণীত হয়েছে। ১৯৯৯ সালের সেই যুগান্তকারী রায়ে সুপ্রিম কোর্ট বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে কার্যকরভাবে পৃথক করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। ২০০৭ সালে আংশিক পৃথকীকরণ হলেও অধস্তন আদালতের নিয়ন্ত্রণ কার্যত নির্বাহী বিভাগের হাতেই থেকে যায়। জারিকৃত অধ্যাদেশ সেই অসম্পূর্ণ যাত্রাকে পূর্ণতা দেওয়ার সূচনা করেছে।

বিবৃতিতে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়, রাষ্ট্র সংস্কারে সরকারি দল বিএনপি’র ঘোষিত ৩১ দফার ৯ নং দফায় স্পষ্টভাবে অঙ্গীকার করা হয়েছে, মাসদার হোসেন মামলার রায়ের আলোকে বিচার বিভাগের কার্যকর স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে; অধস্তন আদালতের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বিধানের কর্তৃত্ব সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত করা হবে এবং বিচার বিভাগের জন্য সুপ্রীম কোর্টের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি পৃথক সচিবালয় থাকবে। পাশাপাশি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারের সাংবিধানিক সংস্কার অংশের ২০ নং দফায় অধস্তন আদালতের বিচারকদের চাকরির নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণভাবে সুপ্রীম কোর্টের ওপর ন্যস্ত করতে সংবিধান সংশোধনের অঙ্গীকার রয়েছে এবং স্বাধীন বিচার বিভাগ অংশে পৃথক সচিবালয়কে আরো শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম মূল স্পিরিট ছিল রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। জুলাই জাতীয় সনদে দেশের সকল প্রধান রাজনৈতিক দল স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে একমত হয়েছে। এই জাতীয় ঐকমত্যকে সম্মান জানানোই নির্বাচিত সরকারের সাংবিধানিক ও নৈতিক দায়িত্ব বলে ইয়াং জাজেস ফোরাম মনে করে।

এমতাবস্থায় ‘ইয়াং জাজেস ফর জুডিসিয়াল রিফর্ম’ সরকারের নিকট সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরুর তারিখ হতে ৩০ দিনের মধ্যে ‘সুপ্রীম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫’ আইন হিসেবে পাশ করার জোর দাবি ব্যক্ত করছে। একইসাথে রাজনৈতিক দলসমূহের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রদত্ত অঙ্গীকার এবং জুলাই জাতীয় সনদের ঐকমত্য অনুযায়ী বিচার বিভাগের পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধনেরও অনুরোধ জানাচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট বিচার বিভাগে সংস্কারের দাবিতে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের (বিজেএস) ষষ্ঠ থেকে পঞ্চদশ ব্যাচের সহকারী জজ ও সিনিয়র সহকারী জজ সমমর্যাদার বিচারকদের সমন্বয়ে ‘ইয়াং জাজেস ফর জুডিশিয়াল রিফর্ম’ নামে সংগঠন গঠিত হয়।

বাংলাদেশ সময়: ০:১৬:৩৯   ৭ বার পঠিত