বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

অটো পাশ নিয়ে যা বললেন শিক্ষামন্ত্রী মিলন

প্রথম পাতা » প্রধান সংবাদ » অটো পাশ নিয়ে যা বললেন শিক্ষামন্ত্রী মিলন
বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬



অটো পাশ নিয়ে যা বললেন শিক্ষামন্ত্রী মিলন

সদ্য দায়িত্ব নেওয়া শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, মব সৃষ্টি করে পরীক্ষা বন্ধ করে দেওয়া বা অটো পাস নেওয়ার সংস্কৃতি কখনোই কাঙ্ক্ষিত ছিল না। বর্তমান সরকার এ ধরনের বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করবে।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দ্বিতীয় কার্যদিবসে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মন্ত্রী বলেন, এসব কেন হয়েছে, সে পুরোনো গল্পে আমরা যাব না। আমাদের ভিশন-মিশন ইশতেহারে ছিল, আজ প্রতিমন্ত্রী লিখিতভাবে তা আবারও তুলে ধরেছেন। সেটাকে সামনে রেখে আমরা আগামী দিনের শিক্ষাব্যবস্থাকে যুগোপযোগী করব। তিনি জানান, মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন বিভাগকে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে সতর্কতা

আসন্ন এসএসসি পরীক্ষা প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রশ্নপত্র প্রস্তুত হয়ে গেছে। বিতরণে যেন কোনো সমস্যা না হয় এবং পরীক্ষা নিয়ে কোনো ঝামেলা না হয়—সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। পরবর্তীতে আরও ব্যাপক আলোচনা করা হবে বলেও জানান তিনি।

একই মন্ত্রণালয়ে পূর্বে দায়িত্বপালনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আহছানুল হক মিলন বলেন, ২০০১ সালে দায়িত্ব নেওয়ার সময় বরিশাল শিক্ষা বোর্ড গঠন করেছিলেন এবং একজন পাবলিক স্কুলের অধ্যক্ষকে প্রধান করেছিলেন। এ সিদ্ধান্তে বিসিএস শিক্ষা প্রশাসনের নেতারা আপত্তি তুলেছিলেন।

তিনি বলেন, “বোর্ড তো প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান, ক্লাসরুম নয়। আমার দায়িত্ব প্রশাসন চালানো। শিক্ষকরা শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করবেন—আন্দোলন করবেন না।”

দাবি-দাওয়া নিয়ে অবস্থান

শিক্ষকদের দাবি-দাওয়া প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, আপনাদের দাবি-দাওয়া আমরা দেখব। রাজপথ দখল করে দাবি আদায়ের প্রয়োজন নেই। কোনটি দেওয়া সম্ভব, কোনটি নয়—তা আমরা বুঝি। শিক্ষকরা মানুষ গড়ার কারিগর, আমরা তাদের পক্ষেই আছি।

তিনি দাবি করেন, অতীতে দায়িত্ব পালনের সময় তার বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ ওঠেনি। “এটি অন্য মন্ত্রণালয়ের মতো নয়,” মন্তব্য করেন তিনি।

বর্তমান কারিকুলাম বহাল থাকবে কি না—এ প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, পাঠ্যক্রম পর্যালোচনা (রিভিউ) করা হবে। যেখানে প্রয়োজন, সেখানে পরিমার্জন আনা হবে। এ বিষয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)–এর বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সমন্বয় করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

শিক্ষাব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ও মানোন্নয়নে সরকার দৃঢ় অবস্থানে থাকবে বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশ সময়: ২৩:৫৯:৫৮   ১৩০ বার পঠিত