
‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬-এ গণভোটের প্রচারণায় অপ্রয়োজনীয় বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। গণভোটের প্রচারণার ক্ষেত্রে দেশের বড় রাজনৈতিক দলগুলোর বিপরীতে অবস্থান নেয়ার ফলে গণভোট বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সরকারের এবং নাগরিকদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সরকার ও নির্বাচন কমিশন, উভয়েরই অপরিণামদর্শী পদক্ষেপের ফলে গণভোটে সরকারের সরাসরি ভূমিকাকে কেন্দ্র করে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।’—আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী সংগঠন ট্রান্সপারেসি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) পর্যবেক্ষণে এমনটিই উঠে এসেছে। রোববার বেলা ১১টায় ঢাকার টিআইবি কার্যালয়ে এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে সংস্থাটি।
পর্যবেক্ষণে বলা হয়, প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলসমূহের বিপরীতমুখী অবস্থানের কারণে গণভোট বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সরকারের দোদুল্যমানতা ও উভয়পক্ষের সন্তুষ্টি প্রত্যাশী অধ্যাদেশ প্রণয়ন, যা শুরুতেই গণভোটের বিষয় ও প্রশ্ন নিয়ে ধোঁয়াশা, বিভ্রান্তি ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, একই দিনে নির্বাচন ও গণভোট এবং সংসদে উচ্চকক্ষ বিষয়ক বাধ্যবাধকতার সিদ্ধান্ত যদি উক্ত সন্তুষ্টি অর্জনের উপায় বিবেচনা করা হয়েও থাকে, তবুও বিষয়টি আরও জটিল হয়েছে। এমন বিশাল গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে, বিশেষ করে অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও গণভোট এবং ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সরকারি সিদ্ধান্তের প্রক্রিয়ায় সরকার ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে কোনো প্রকার গঠনমূলক পরামর্শ বা সমন্বয়ের সুযোগ নেয়া হয়েছে কিনা তা জানা যায়নি।
টিআইবি বলছে, সরকারের প্রচারণা কার্যক্রম শুরু হওয়ার ১৮ দিন পর সরকারি কর্মচারীদের গণভোটের পক্ষে প্রচার সম্পর্কে যে নির্দেশনা নির্বাচন কমিশন দিয়েছিল তা কতটুকু সুচিন্তিত, আইনসম্মত ও গঠনমূলক, এসব প্রশ্নের কারণে আরও অধিকতর বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনায় নির্বাচন ও গণভোটের সমার্থক হিসেবে বিবেচিত হয়েছে, যা প্রশ্নবিদ্ধ, কারণ গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ২(৭) অনুযায়ী ‘নির্বাচন অর্থ এ আদেশের অধীন কোনো সদস্যের আসনে অনুষ্ঠিত নির্বাচন’। অর্থাৎ কোনোভাবেই গণভোটকে নির্বাচনের সমার্থক বিবেচনার সুযোগ নেই, গণভোটে ভোটার কোনো আসনে বা কোনো সদস্যের পক্ষে বা বিপক্ষে ভোট দেয় না।
টিআইবির পর্যবেক্ষণের আলোকে জানিয়েছে, প্রজ্ঞাপন জারির আগে গণভোট অধ্যাদেশ প্রণেতা হিসেবে সরকারের সাথে নির্বাচন কমিশন আলোচনার সুযোগ নিলে তার স্বাধীন ভূমিকার চর্চা প্রশ্নবিদ্ধ হতো না, বরং অযাচিত বিভ্রান্তি পরিহার করা সম্ভব হতো।
বাংলাদেশ সময়: ১৬:৪৯:৫৪ ৩৯ বার পঠিত