তুমুল বিতর্ক জামায়াত আমীরের এক্স হ্যান্ডেল পোস্ট

প্রথম পাতা » জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ » তুমুল বিতর্ক জামায়াত আমীরের এক্স হ্যান্ডেল পোস্ট
মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬



জামায়াত আমীরের এক্স হ্যান্ডেল পোস্ট

নারী ইস্যুতে তুমুল বিতর্ক। কথার লড়াইয়ে টানটান উত্তেজনা। প্রতিবাদ-বিক্ষোভ। জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এই ইস্যু এখন এক টার্নিং পয়েন্ট হয়ে উঠেছে। শনিবার জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমানের এক্স হ্যান্ডেল থেকে কর্মজীবী নারীদের নিয়ে একটি পোস্টে তোলপাড় চলছে সর্বত্র। এর আগে নারীদের কর্মঘণ্টা কমিয়ে দেয়া নিয়ে তার আরও একটি বক্তব্য বিতর্কের ঝড় তুলেছিল। নারীদের ইঙ্গিত করে ডাকসু নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্য দিয়ে বরগুনা জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি শামীম আহসান আলোচনায় আসেন। ওই বক্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হলে জামায়াত তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে। নারী ইস্যুতে দলটির নেতাদের এমন একের পর এক বক্তব্যে রাজনীতিতেও নতুন মেরূকরণ তৈরি হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই নির্বাচনী প্রস্তুতিতে জামায়াত। বিএনপি সহ অন্যান্য দল নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করে আরও অনেক পরে। দীর্ঘ সময় ধরে জামায়াত দেশের নারীদের টার্গেট করে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছে। নারী ভোটারদের নিয়ে বিশেষ পরিকল্পনাও নিয়েছে দলটি। ঘরে ঘরে গিয়ে নারীদের ভোট দিতে নারী কর্মীদের উদ্বুদ্ধ করছেন। কোথাও কোথাও ভোটারদের বলা হচ্ছে, জামায়াতের প্রতীক দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে বেহেশতে যাওয়া যাবে। এ ছাড়া নারীদের নানা সুযোগ-সুবিধারও প্রলোভন দেখানো হয়। নারীদের নিয়ে ব্যাপক প্রচারণা ও দলটির প্রতিশ্রুতিতে কেউ কেউ প্রলুব্ধও হয়েছেন। কিন্তু শীর্ষ নেতাদের সাম্প্রতিক বক্তব্যে ক্ষুব্ধ বিভিন্ন নারী সংগঠন এবং সাধারণ নারী ভোটার।

প্রশ্ন উঠেছে- নারীদের নিয়ে জামায়াত নেতাদের সাম্প্রতিক বক্তব্য ও অবস্থান কি তাদের নির্বাচনী কৌশল নাকি নারীদের নিয়ে দলটির অতীত অবস্থানের প্রকাশ? সর্বশেষ জামায়াত আমীরের এক্স হ্যান্ডেল থেকে প্রচারিত পোস্টে তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়েছে নারী সমাজ ও রাজনৈতিক অঙ্গনে। ওই পোস্ট প্রকাশের কয়েক ঘণ্টা পর অবশ্য দলটি দাবি করে- আমীরের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে। দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেউ ওই পোস্ট করেননি। শনিবার বিকালে করা পোস্টে বলা হয়েছিল, ‘নারীর প্রশ্নে জামায়াতের অবস্থান বিভ্রান্তিকর বা অনুশোচনামূলক নয়- এটা নীতিগত। আমরা মনে করি না- নারীদের নেতৃত্বে আসা উচিত। জামায়াতে এটা অসম্ভব। আল্লাহ এটা অনুমোদন করেন না’।

ওই পোস্টের পরের অংশে লেখা হয়- “আমরা বিশ্বাস করি যে, যখন মহিলাদের আধুনিকতার নামে ঘর থেকে বের করা হয়, তখন তারা শোষণ, নৈতিক অবক্ষয় এবং নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হয়, তখন এটি অন্য কিছু নয় বরং অন্য রূপে পতিতাবৃত্তির মতোই”।এই পোস্টটি প্রচারের পরই তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ করে। ঝাড়ু হাতে বিক্ষোভ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীরা। এই পোস্টের প্রতিক্রিয়ায় বিক্ষোভ হয় অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও। ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার পর জামায়াত আইডি হ্যাক হওয়ার দাবি করে। তবে ঘটনার অনেক পরে দলীয় ব্যাখ্যা দেয়ায় অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করেন। শনিবার বিকাল ৪টা ৩৭ মিনিটে ওই পোস্টটি করা হলেও রাত পৌনে একটার দিকে এ নিয়ে দলীয় ফেসবুক পেজে আইডি হ্যাকের বিষয়টি জানানো হয়। ব্যাপক সমালোচনা হওয়ায় রোববার জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকে দলের পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা দেয়া হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় পর জামায়াতের এই ব্যাখ্যায় উল্টো সংশয় ও ধূম্রজাল তৈরি হয়।

বিএনপি’র পক্ষ থেকেই জামায়াতের ‘হ্যাক’ হওয়ার দাবি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বলেন, ‘সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন ওঠে যে, নারী বিদ্বেষী পোস্টের প্রায় ৯ ঘণ্টা পর সমালোচনার মুখে, রাত ১টার দিকে আইডি হ্যাকের দাবি কতোটা যৌক্তিক? তিনি বলেন, কোনো গুরুত্বপূর্ণ বা ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট হ্যাক হলে প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব হলো দ্রুততম সময়ে জনগণকে অবহিত করা, যাতে বিভ্রান্তি না ছড়ায় এবং সবাই সতর্ক থাকতে পারে। কিন্তু এখানে দেখা গেল, জনগণের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার পর হঠাৎ করে হ্যাকিংয়ের দাবি তোলা হয়েছে। এতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, এই দাবি কতোটা বিশ্বাসযোগ্য?

জামায়াত আমীরের এই এক্স পোস্ট ইস্যুতে দু’দিন ধরে রাজনীতি এবং ভোটের মাঠেও ব্যাপক আলোচনায়। গতকাল নির্বাচনী জনসভায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানও এ নিয়ে কথা বলেন। খুলনা ও যশোরের পৃথক জনসভায় তিনি জামায়াতকে ইঙ্গিত করে বলেন, ওই রাজনৈতিক দলটি নারীদের সম্মান করতে জানে না। যাদের নেতা আজ বাংলাদেশের নারীদের একটি খারাপ কিছুর সঙ্গে তুলনা করেছেন, তারা বলে তারা ইসলাম কায়েম করবে। যারা দেশের নারী সমাজকে হেয়প্রতিপন্ন করছে, এরাই আবার নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে।

নারীদের ইঙ্গিত করে ডাকসু নিয়ে গত ২৫শে জানুয়ারি বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় আয়োজিত এক জনসভায় বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি শামীম আহসান। তিনি তার বক্তব্যে ডাকসু এক সময় মাদকের আখড়া ও ‘বেশ্যাখানা’ ছিল বলে মন্তব্য করেন। তার এই বক্তব্যের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সারা দেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া হয়। জামায়াত নেতার এই বক্তব্যের আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ ও নিন্দা জানায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও ডাকসু। ব্যাপক প্রতিক্রিয়া আসায় বরগুনার ওই নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করে জামায়াত। এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শামীম আহসান যে ভাষায় বক্তব্য দিয়েছেন তা জামায়াতের নীতি ও আদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

বাংলাদেশ সময়: ১০:২৫:০১   ৪৯ বার পঠিত  




জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬’র আরও খবর


বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনের ভোট ৯ এপ্রিল
প্রতিমন্ত্রী হলেন রাজবাড়ী-১ আসনের এমপি আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম
প্রথমবার এমপি হয়েই মন্ত্রী আসাদুজ্জামান, পেলেন যে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়
তারেক রহমানের ছেড়ে দেওয়া বগুড়া-৬ আসন শূন্য ঘোষণা
জাল ভোট, বুথ দখলসহ নির্বাচনে যেসব অনিয়ম পেয়েছে টিআইবি
ঢাকায় আসছেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী
শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ঢাকায় আসছেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট
শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ঢাকা আসছেন ব্রিটিশ মন্ত্রী সীমা মালহোত্রা
শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ঢাকা আসছে তুরস্ক সরকারের ৩ সদস্যের প্রতিনিধি দল
শপথ অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করতে আসছেন দেশটির পরিকল্পনামন্ত্রী

Law News24.com News Archive

আর্কাইভ