রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের গবেষকদের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় চলনবিলের ভূগর্ভস্থ পানির সংকটের ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, চলনবিলের মাত্র ১ শতাংশ এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির সম্ভাবনা ‘খুব বেশি’। ৫ হাজার ৯৭ বর্গকিলোমিটার এলাকার মধ্যে ৬৫ বর্গকিলোমিটার এলাকা এই উচ্চ সম্ভাবনার শ্রেণিতে থাকলেও, ৩ হাজার ৯৩৩ বর্গকিলোমিটার বা ৭৭ শতাংশ এলাকায় সম্ভাবনা মাঝারি এবং ১ হাজার ৯৯ বর্গকিলোমিটার বা ২২ শতাংশ এলাকায় সম্ভাবনা কম।
গবেষণা দলের সদস্য ওয়াহিদুল আলম জানান, শুকনা মৌসুমে ভালো সম্ভাবনার এলাকায় ২০ মিটার গভীরে পানি পাওয়া গেলেও, মাঝারি ও কম সম্ভাবনার এলাকায় তা যথাক্রমে ২৫ ও ৪০ মিটার গভীরে চলে যায়। চলনবিলের ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণে কাদামাটির স্তর একটি বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে।
গবেষকদের মতে, এই সংকটের পেছনে প্রকৃতিগত বৈশিষ্ট্যের পাশাপাশি বৃষ্টিপাত কমে যাওয়া, ব্যাপক সেচের কারণে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়া এবং বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ দায়ী। ১৯৯০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলনবিল এলাকায় বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাত ১ হাজার ৫৯৫ মিলিমিটার থেকে কমে ১ হাজার ৩৭০ মিলিমিটারে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে বোরো ধান চাষে সেচের জন্য ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। নাটোর জেলার বিএডিসির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯-২০ সালের বোরো মৌসুমে সেচযন্ত্রের সংখ্যা ছিল ৩৬ হাজার ৫০৫টি, যা ২০২৫-২৬ সালে বেড়ে ৪৪ হাজার ২২৯টিতে দাঁড়িয়েছে।
গবেষণার প্রধান অধ্যাপক চৌধুরী সারোয়ার জাহান সতর্ক করে বলেন, জলাভূমিতে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়া পরিবেশগত বিপর্যয়ের লক্ষণ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক মতিন উদ্দিন খানও এই মতের সঙ্গে একমত পোষণ করে সেচে ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
বাংলাদেশ সময়: ১২:১০:৪৯ ৯ বার পঠিত #গবেষণা #চলনবিল #পরিবেশ বিপর্যয় #ভূগর্ভস্থ পানি #রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় #সেচ সংকট