বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সংলগ্ন সেতু উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি রাশিয়ার

প্রথম পাতা » আন্তর্জাতিক » ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সংলগ্ন সেতু উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি রাশিয়ার
বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬



ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সংলগ্ন সেতু উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি রাশিয়ার

ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকা একটি কৌশলগত সেতু ধ্বংসে ব্রিটিশ ড্রোন ব্যবহারের তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে মস্কো। এর প্রতিশোধ হিসেবে লন্ডনের ঐতিহ্যবাহী ওয়েস্টমিনিস্টার ব্রিজ উড়িয়ে দেওয়ার জন্য রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির নাগরিক ও সামরিক বিশ্লেষকরা।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য মিরর -এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত বছরের মার্চে, যখন দিনিপ্রো নদীর উপনদী কনকার ওপর একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটায় ইউক্রেনীয় বাহিনী। সম্প্রতি ফাঁস হওয়া তথ্যে জানা গেছে, ওই অভিযানে যুক্তরাজ্যে তৈরি ‘ম্যালয় টি-১৫০’ নামের শক্তিশালী হেভি-লিফট ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছিল। এই ড্রোনগুলো অত্যন্ত ভারী ওজন বহনে সক্ষম।

এই তথ্য জানাজানি হওয়ার পর মস্কোর কর্মকর্তাদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের কর্মকর্তা ও বিশ্লেষক ভ্লাদিমির কর্নিলভ ব্রিটিশদের কড়া সমালোচনা করে বলেন, রুশ ভূখণ্ডে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে নিজেদের অংশগ্রহণ নিয়ে ব্রিটিশদের এই দম্ভ অত্যন্ত আপত্তিকর।

তিনি পরামর্শ দেন, লন্ডনের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ওয়েস্টমিনিস্টার ব্রিজটি ধ্বংস করার এখনই উপযুক্ত সময়। ব্যঙ্গাত্মক সুরে তিনি আরও বলেন, এই হামলা হয়তো হুথি বা ইরানিরা চালাবে।

উল্লেখ্য, ঐতিহাসিক এই সেতুটি ব্রিটিশ পার্লামেন্ট ভবনের পাশেই অবস্থিত এবং রাশিয়ার গোয়েন্দা নজরদারিতে এটি দীর্ঘকাল ধরেই রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। আলোচিত রুশ সুন্দরী গুপ্তচর আন্না চ্যাপম্যানকেও যুক্তরাষ্ট্রে গ্রেপ্তার হওয়ার আগে এই ব্রিজের ওপর ছবি তুলতে দেখা গিয়েছিল।

এদিকে রাশিয়ার সংবাদমাধ্যম ‘সারগ্রাদ’ এক প্রতিবেদনে প্রশ্ন তুলেছে, সন্ত্রাসবাদী হামলায় সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা ব্রিটিশরা যখন নিজেরাই স্বীকার করছে, তখন লন্ডনের মতো সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কেন্দ্রগুলোতে আঘাত হানার সময় এসেছে কি না।

অন্যদিকে ইউক্রেনীয় বাহিনীর ৪২৬তম আনম্যানড সিস্টেম রেজিমেন্টের কমান্ডার কর্নেল ওলেক্সি বুলাখভ জানান, তারা প্রায় ৩০টি মিশনে এই ড্রোন ব্যবহার করে প্রায় ১.৫ টন বিস্ফোরক নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছে দিয়েছেন। তারা সেতুর দুর্বল পয়েন্টে বিশেষ পদ্ধতিতে বিস্ফোরক স্থাপন করে পরে ক্ষেপণাস্ত্রের সাহায্যে তা ধ্বংস করেন।

যদিও আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী ওই এলাকাটি ইউক্রেনের অংশ, কিন্তু রাশিয়া এটিকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে আসছে। এই ড্রোন হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্রিটেন ও রাশিয়ার মধ্যেকার কূটনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনা এখন এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।

বাংলাদেশ সময়: ০:৪৯:৫০   ১১ বার পঠিত