![]()
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কাছে ডেকে নিয়ে বাংলাদেশি কৃষক মিজানুর রহমান মিজানকে গুলি করেছে। সোমবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর উত্তেজিত এলাকাবাসী সীমান্তের ওপাশ থেকে ভারতীয় কৃষক সহদেব বর্মণকে দুটি গরুসহ বাংলাদেশের ভেতরে ধরে নিয়ে আসে। সন্ধ্যায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তিনি বিজিবির হেফাজতে ছিলেন।
জানা যায়, এ ঘটনার পর শূন্যরেখার প্রায় দুই কিলোমিটারজুড়ে বিপুলসংখ্যক বিএসএফ সদস্য অস্ত্রসহ অবস্থান নেন। এতে সীমান্তজুড়ে আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিজিবিও ওই সীমান্তে শক্তি বৃদ্ধি করে। বিকালে সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফ-এর মধ্যে পতাকা বৈঠক হয়।
আহত মিজান গাটিয়ারভিটা গ্রামের মফিজুল ইসলামের ছেলে। অন্যদিকে সহদেব বর্মণ ভারতের কোচবিহারের ৯৪ ফুলকাডাবরী এলাকার হরেন্দ্র নাথ বর্মণের ছেলে।
বিজিবি, সীমান্ত সূত্র ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভারতের কোচবিহার রাজ্যের ফুলকাডাবরী গ্রামের ডাঙিরটারী সীমান্তের অপর পাশে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সদর ইউনিয়নের গাটিয়ারভিটা গ্রামের ডাঙারবাড়ী এলাকা। এই পিলারের ভারতীয় কাঁটাতারের বেড়ার বাইরে শূন্যরেখার দুইদিকে নিজেদের জমি চাষাবাদ করেন উভয় দেশের কৃষকরা। সোমবার সকালে মিজান নিজেদের ভুট্টাখেতে কাজ করছিলেন। এ সময় ভারতের মেখলিগঞ্জ ৯৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের গোমতি ক্যাম্পের টহল দলের একজন সদস্য মিজানকে ডেকে একটি ভুট্টার মোচা দেখতে চান। মিজান ভুট্টা ছিঁড়ে ওই জওয়ানকে দিতে গেলে গুলি চালানো হয়। এ সময় তিনি বসে পড়লে তার ডান কাঁধে গুলি লাগে। পরে হামাগুড়ি দিয়ে ভুট্টাখেত পেরিয়ে বাংলাদেশি ভুখণ্ডে চলে আসেন মিজান। স্থানীয়রা তাকে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয় এবং পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে রংপুরে তিনি চিকিৎসাধীন। এ ঘটনার পর এলাকাবাসী উত্তেজিত হয়ে শূন্যরেখার জমি চাষাবাদ করতে থাকা ভারতীয় কৃষক সহদেব বর্মণকে দুটি গরুসহ বাংলাদেশের ভেতরে ধরে নিয়ে আসেন। এ ঘটনার পরপরই শূন্যরেখার প্রায় ২ কিলোমিটারজুড়ে অসংখ্য বিএসএফের সদস্য অস্ত্র হাতে অবস্থান নেন। এতে সীমান্তে আতঙ্ক ও উত্তেজনা দেখা দেয়। খবর পেয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৬১-এর (তিস্তা-২) ধবলসুতি ক্যাম্পের নায়েব সুবেদার বাদশা মিয়া বিএসএফ-এর ওই ক্যাম্পের কমান্ডারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ঘটনার প্রায় দুই ঘণ্টা পর উভয় ক্যাম্পের কমান্ডার ঘটনাস্থলে গিয়ে কথা বলেন।
বিজিবির তিস্তা-২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল সৈয়দ ফজলে মুনিম বলেন, বাংলাদেশিকে গুলি করার ঘটনায় অনুষ্ঠিত পতাকা বৈঠকে বিএসএফ-এর পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা চাওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ সময়: ৯:৪৮:৩২ ১৫ বার পঠিত