![]()
বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা সীমিত, কিন্তু পদটি অত্যন্ত সম্মানজনক। তিনি রাষ্ট্রের ওয়ারেন্ট অফ প্রিসিডেন্স অনুযায়ী সর্বোচ্চ পদমর্যাদার অধিকারী। তাই তিনি ‘মহামান্য’।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদের ধারা ২ ধারা অনুযায়ী, ‘রাষ্ট্রপ্রধান রূপে রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের অন্য সকল ব্যক্তির ঊর্ধ্বে স্থান লাভ করিবেন এবং এই সংবিধান ও অন্য কোন আইনের দ্বারা তাঁহাকে প্রদত্ত ও তাঁহার উপর অর্পিত সকল ক্ষমতা প্রয়োগ ও কর্তব্য পালন করিবেন।’
৫১ অনুচ্ছেদের ১ ধারা অনুযায়ী, ‘এই সংবিধানের ৫২ অনুচ্ছেদের হানি না ঘটাইয়া বিধান করা হইতেছে যে, রাষ্ট্রপতি তাঁহার দায়িত্ব পালন করিতে গিয়া কিংবা অনুরূপ বিবেচনায় কোন কার্য করিয়া থাকিলে বা না করিয়া থাকিলে সেইজন্য তাঁহাকে কোন আদালতে জবাবদিহি করিতে হইবে না, তবে এই দফা সরকারের বিরুদ্ধে কার্যধারা গ্রহণে কোন ব্যক্তির অধিকার ক্ষুন্ন করিবে না।’
৫১ অনুচ্ছেদের ২ ধারা অনুযায়ী, ‘রাষ্ট্রপতির কার্যভারকালে তাঁহার বিরুদ্ধে কোন আদালতে কোন প্রকার ফৌজদারী কার্যধারা দায়ের করা বা চালু রাখা যাইবে না এবং তাঁহার গ্রেফতার বা কারাবাসের জন্য কোন আদালত হইতে পরোয়ানা জারী করা যাইবে না।’
প্রধানমন্ত্রী দেশের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক কর্মকর্তা। অন্যদিকে রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন দেশের সর্বোচ্চ পদধারী। আপাতদৃষ্টিতে রাষ্ট্রপতির হাতে প্রশাসন বা দেশ নিয়ন্ত্রণে তেমন জোরালো ক্ষমতা নেই। তবুও প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শের জন্য এবং দেশ ও দশের মঙলের জন্য তাঁকে “মহামান্য” বিশেষণে সম্বোধন করা হয়।
রাষ্ট্রপতি পদবির পূর্বে ‘মহামান্য ’ এবং প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীগণের পদবির পূর্বে ‘মাননীয় ’ সম্ভাষণ ব্যবহারের সাংবিধানিক বা সংবিধিবদ্ধ কোনো বাধ্যবাধকতা না থাকলেও বিষয়টি দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত শিষ্টাচার বা রীতি।
প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীদের নামের পূর্বে ‘মাননীয়’, পদস্থ আমলাদের পদবির শেষে মহোদয়, রাষ্ট্রদূতগণের নামের পূর্বে মান্যবর (এক্সিলেন্সি) সম্ভাষণ ব্যবহার করা হয়। এসবের আইনগত ভিত্তি না থাকলেও এটি দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত বৈশ্বিক রীতি।
আবার আমলাদের ‘স্যার’ বা ‘ম্যাডাম’ সম্বোধনের কোনো আইন নেই কিন্তু রীতি প্রচলিত। অনেক ক্ষেত্রে আইনের চেয়েও রীতি বেশ শক্তিশালী।
যুক্তরাজ্য ও তার সাবেক অনেক কলোনী রাষ্ট্রসমূহে প্রধানমন্ত্রী পদের পূর্বে সম্মানসূচক সম্বোধন হিসেবে ‘Right Honorable’, রাজা বা রাণীর ক্ষেত্রে ‘His/Her Majesty, কানাডার প্রধানমন্ত্রীকে ‘Mr. Prime Minister, এবং আমেরিকার রাষ্ট্রপতির ক্ষেত্রে ‘Mr. President’ সম্বোধন করা হয়। এভাবে সম্বোধন করায় তাদের রীতি আর এভাবেই তাঁরা সম্মানিত হন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভূমিধস বিজয়ের পর মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তারেক রহমান। শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মন্ত্রীপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি।
বিকাল ৪ টা ৭ মিনিটে শপথ অনুষ্ঠান শুরু করেন ড. নাসিমুল গনি। প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের একটানা শপথ শেষ হয় ৪টা ৩০ মিনিটে। শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা কালে জ্ঞাতসারেই হোক বা অজ্ঞাতসারেই হোক রাষ্ট্রপতি বলার পূর্বে একবার ‘মহামান্য’ সম্বোধন করেননি ড. নাসিমুল গনি। প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের ক্ষেত্রে ‘মাননীয়’ সম্বোধন বহুবার ব্যবহার করা হলেও রাষ্ট্রপতির ক্ষেত্রে ‘মাননীয়’ সম্বোধন ব্যবহার করা হয়েছে মাত্র দুইবার। শপথ অনুষ্ঠান শুরু করতে রাষ্ট্রপতির অনুমতির প্রার্থনার সময় ও এর পরে একবার। এছাড়া প্রতিবারই ‘রাষ্ট্রপতি মহোদয়’ সম্বোধন করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি পদটি একটি সাংবিধানিক পদ। দেশের একনম্বর তথা প্রধান ব্যক্তি। রাষ্ট্রপতিকে সম্মানপ্রদর্শনের বা সম্বোধনের ক্ষেত্রে জ্ঞাতসারেই যদি এ দীনতা দেখানো হয় তাহলে জাতি হিসেবে আমরা কী খুবই সম্মানিত হলাম? আর ‘মহামান্য’ সম্বোধন করা হলেই কী আমাদের খুব অসম্মান হতো?
বাংলাদেশ সময়: ২:৩৩:০৫ ১২৪ বার পঠিত